মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার হস্তান্তরে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৮

নির্ধারিত সময় ৫ নভেম্বর পার হলেও ঢাকার মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার হস্তান্তরের বিষয়ে এখনও কোনো সুরাহা হয়নি। কবে নাগাদ হস্তান্তর হবে বলতে পারছে না কেউই। ফলে ফ্লাইওভারটি হস্তান্তরের বিষয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা।

জানা গেছে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার হস্তান্তরে গত ২২ অক্টোবর কমিটি গঠন করে দিয়েছিল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। তবে এতেও কোনো সুরহা হয়নি। যদিও ফ্লাইভরাটির দায়িত্ব বুঝে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তবে ফ্লাইওভারটি বুঝে নিতে এখনও আপত্তি রয়েছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্লাইওভারে নানা ক্রটি এবং সেগুলো সংস্কার না করা পর্যন্ত ফ্লাইওভার বুঝে নিতে চাচ্ছে না দুই সিটি কর্পোরেশন। আগে সেগুলো সংস্কার নতুবা সংস্কারের জন্য বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন।

সীমানা অনুযায়ী, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মালিবাগ মোড় ও মৌচাক অংশ পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে। আর রামপুরা, তেজগাঁও, মালিবাগ রেলগেট ও মগবাজার অংশ পড়েছে উত্তরে।

জানা গেছে, নকশা অনুমোদনের পর থেকেই মগবাজার মৌচাক-ফ্লাইওভার নিয়ে নানা ক্রটি দেখা দেয়। এর মধ্যে ফ্লাইওভারে ট্রাফিক সিগন্যাল, বৈদ্যুতিক বাতি, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বাম দিকে স্টিয়ারিং, যানজট লেগে থাকা, ওঠা-নামার র‌্যাম্প জটিলতাসহ নামার লুপে যানজট লেগেই থাকে। এ ছাড়া কথা ছিল ফ্লাইওভার নির্মাণ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত, সড়ক ও ড্রেনগুলো তৈরি করে দেবে তারা। কিন্তু তা ঠিক করে দেয়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার হস্তান্তরের বিষয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এরমধ্যে ফ্লাইওভারে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেগুলো সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় ফুটপাত ও ড্রেনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামতের বরাদ্দ দিতে হবে। তাহলে ফ্লাইওভার বুঝে নেয়া সম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক কবে নাগাদ হস্তান্তর হবে সেটা বলা কঠিন। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা মিটিং হয়েছে। তবে হস্তান্তরের বিষয়টা এখনো প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ফ্লাইওভারটি হস্তান্তরের কাজ চলছে। যেদিন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে তার কয়েকদিন পর কমিটি করা হয়। সে কারণে বেশি সময় না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যায়নি। এখনো কাজ চলছে। কিছু সমঝোতা চুক্তি স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও তার ব্যয়ভার দিতে হবে। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন এর ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো মেরামতের জন্য তহবিল দিতে পারছে না নির্মাণকারী সংস্থা। তবে মন্ত্রণালয় প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরেও বেশ কয়েকটি বিষয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্লাইওভারের ওপরে ও নিচে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আমরা প্রতিবেদন তৈরি করছি। অনেক সময় দেখা যায়, ফ্লাইওভারের ওপরে ধুলাবালিসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে। ধুলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলো অপসারণে কর্মী প্রয়োজন।

ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক সুশান্ত কুমার বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরই দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের উদ্যেগ নেয়া হয়। সে জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীদের বুয়েট থেকে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব নথিও দেয়া হয়েছে। এখন হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় পদেক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিন তলা বিশিষ্ট চার লেনের এ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার। ১২১৮ কোটি ৮৯ হাজার ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ হয়েছে তিন ভাগে। এটি ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। এর প্রতি মিটারে খরচ হয়েছে ১৩ লাখ টাকা।

এএস/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :