রাজাকারমুক্ত সংসদ চায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদকে রাজাকারমুক্ত দেখতে চায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক নাগরিক সংলাপে ফোরামের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার।

প্রবন্ধে তিনি বলেন, `আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের পর যে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছিলাম সেটি ফিরে পাবার টার্নিং পয়েন্ট এবারের নির্বাচন। তাই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। একই সঙ্গে শোষণহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।‘

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, `১৯৭৫ সালে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে তাদের পুনর্গঠিত একটি ফোরাম হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট। এরা বঙ্গবন্ধুর কথা বলে আসলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সংগঠিত করছে। তাই নতুন ভোটারদের কাছে যেতে হবে। তাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলতে হবে। সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে পুনর্নির্বাচিত করতে হবে।’

সাবেক ডাকসু ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, ‘ড. কামালের ৭ দফার প্রথম দফা আদালতে বিচারাধীন একজন অপরাধীর মুক্তির দাবি। আমি মনে করি এটিই তার মূল দাবি।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুন হাবীব বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে একটি রাজাকারমুক্ত সংসদ দেখতে চাই। সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সবই হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির। এর আগে আমরা রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উড়তে দেখেছি। তা আর দেখতে চাই না। মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত শক্তিকে বিজয়ী করতে হলে, যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার শুরু হয়েছিল তা চলমান রাখতে হলে বর্তমান সরকারকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তিনি বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে সংলাপ করবেন না। তিনি তার কথা রেখেছেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সংলাপে বসেননি। তিনি সংলাপ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘আ স ম রবরা ঐক্যফ্রন্টের নামে কার্যত ২০ দলীয় জোটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ জোটকে এবার নির্বাচনে আসতেই হবে। সেখানে জামায়াতের যে প্রতিনিধি আছে তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন তারা সেটাও দেখতে হবে। তারা যদি একাত্তরের দালালদের মনোনয়ন দেন। তাহলে মুখ লুকানোর কোনো সুযোগ পাবেন না।’

পিকেএসএফ’র সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিরোধী কেউ যেন নির্বাচিত হতে না পারে সে জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতায় রাখতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারোয়ার আলী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো নির্বাচন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেটি কীভাবে হবে তা এখনো ঠিক হলো না। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ নিয়ে একটি সমস্যা তৈরি হয়।’ সংবিধানে যে সমাধান দেয়া আছে, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জেতাতে হবে। আওয়ামী লীগই ঠিক করবে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আর কারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে এ সিদ্ধান্ত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নো ম্যানস ল্যান্ডে থেকে এ সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না।’

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল আলম শহীদের সঞ্চালনায় নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য দেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, লায়লা হাসান, নারী নেত্রী রোকেয়া কবির, ফোরামের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি আবুল হাসিম ভূঁইয়া, ড. মনসুর আহমেদ, সাবেক সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন প্রমুখ।

এসআই/এনডিএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :