রোহিঙ্গারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে কথাটা সঠিক নয় : শহীদুল হক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮
ছবি-ফাইল

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম শহীদুল হক বলেছেন, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য বাছাইকৃত রোহিঙ্গারা ফিরতে না চেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কথাটা সঠিক নয়। আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।

মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গারা ফিরে যাক সেটাই চাই। এ জন্য মিয়ানমার বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে। প্রত্যাবসনের জন্য রোহিঙ্গাদের তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজটি করছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বাড়ি-ঘর তৈরির কাজে সহায়তা করছে ভারত ও চীন। ভারত সেখানে ২৮৫টি আর চীন এক হাজার বাড়ি-ঘর তৈরি করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে জাতিসংঘ। ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গাদের যে তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে, সেই তালিকা একইদিন জাতিসংঘের শরণার্থী অফিসকেও হস্তান্তর করা হয়েছে। নতুন তালিকায় ২২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার নাম রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে কি-না- এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও এ দিন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। তবে এ মাসের মধ্যেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ১৫ নভেম্বর দিনক্ষণ ঠিক করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের দাবি, তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও নিজ জমিতে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা না দেয়ায় ফিরে যাওয়ার মতো সহায়ক পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে প্রত্যাবাসন নিয়ে ভয়ে আছে রোহিঙ্গারা।

এদিকে প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম রয়েছে, এমন খবরে কক্সবাজারের টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা শিবিরের ৯ রোহিঙ্গা ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

শরণার্থী প্রত্যাবাসনের কাজে সম্পৃক্ত বাংলাদেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো কর্মকর্তা বা অতিথির আগমনের খবর পেলেই ঘর ছেড়ে আশেপাশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তালিকাভুক্ত আরও অনেক রোহিঙ্গা। স্বেচ্ছায় যাওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনও প্রাণ ভয়ে রয়েছেন।

জেপি/এএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :