‘সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার পথচারী’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৮

সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) -এর ২৫ বছর পূর্তিতে র‌্যালি, সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নিসচার ২৫ বছর : প্রেক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সকাল সোয়া ১০টায় নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত র‌্যালি হয়। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সেমিনারে তিন বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়।

২০১৫-১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হার নিম্নগামী থাকলেও ২০১৭ সালে তা বেড়ে যায়। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ১৩৩টি।

Road-3

নিসচার মহাসচিব এহসানুল হক বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হয় পথচারীরা। ২০১৭ সালে এক হাজার ৯৬৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে দুই হাজার ৮০৪ পথচারী।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বোধের বেশ অভাব রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

আলোচনা সভায় নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য ঠিকমতো পালন করি না। আবার কেউ পালন করতে চাইলেও করতে পারেন না, এখানে রাজনীতির বিষয়টিও আছে। দেশ স্বাধীনের এতো বছর পরেও আমরা অভ্যাসের পরিবর্তন করতে পারিনি। আবার অন্য দিকগুলোর উন্নয়ন করলেও মানসিক দিকের উন্নয়ন হয়নি। যদি দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো নিজের মনের মধ্যে নিয়ে করতে পারি তবে মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনা থামাতে পারবো।’

Road-3

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘দেশে রেল খাতের উন্নয়ন হয়নি। সারা পৃথিবীতে ট্রেন চলে। আমাদের সেই ট্রেনকে বন্ধ করে দিয়ে তারা বাস, রিকশা ও ট্রাক কিনতে লাগলো। এতদিন পরে আবার এসে ট্রেনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ট্রেনের ওপর গুরুত্ব বাড়লে দুর্ঘটনার সংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে।’

নিসচার ২৫ বছর উপলক্ষে ‘নিসচা রজতজয়ন্তী পুরস্কার’ পান আইয়ুবুর রহমান খান এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এছাড়াও সম্মাননা তুলে দেয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক আজহার মন্ডল এবং মৌলভীবাজার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সালাউদ্দিন কাজলকে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ প্রমুখ।

এমএইচএম/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :