২৮তম জন্মদিন পালন হলো না ছাত্রলীগ নেতা রাকিবের

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮

‘প্রতি বছরের ৮ ডিসেম্বর ঘটা করে পালন করা হতো জন্মদিন। এবারও পারিবারিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের আয়োজনে তার জন্মদিন পালনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কে জানতো এভাবে চলে যাবে রাকিব! তার চলে যাওয়াটা কেউ মেনে নিতে পারেনি। এবারের জন্মদিনটা শুধুই হাহাকারময়। সারপ্রাইজ, উপহার কিছুই দেয়া হলো না ওকে।’

এভাবেই কথাগুলো বলেন গত ৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মহাখালীতে অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারানো ছাত্রলীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (বনানী) সভাপতি তানজিল হোসেন রাকিবের ভাই তারেক।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর মহাখালী টিএনটি কলোনির মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলা শেষে ফেরার পথে নিজ বাসার কাছেই সঙ্গী নূর হোসেনসহ অতর্কিত হামলার শিকার হন রাকিব।

jagonews

পরে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত নূর ইসলাম ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার চণ্ডপাড়া গ্রামের ও ঢাকাস্থ বিটিসিএল এর লাইনম্যান পদে চাকরিরত আলতাফ হোসেনের ছেলে রাকিব। দুই ভাই ও বোনের মধ্যে রাকিব মেজ। পরিবারের সঙ্গে মহাখালী বিটিসিএল কলোনির কল্যাণ-৬০৪ নম্বর বাসায় থাকতেন।

jagonews

তেজগাঁও সরকারি কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে বিবিএ পাস করার পর সরকারি তিতুমীর কলেজে এমবিএ’তে ভর্তির আবেদন করেন রাকিব।

নিহত রাকিবের ভাই তারেক মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওর জন্মদিন পালন হয় প্রতি বছরই। এবার আমাদের ছোটবোন দোলন ঢাকায় এসেছিল কেক কাটবে বলে। কিন্তু কেক আর কাটা হলো কোথায়। আগের রাতেই সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রে আঘাতে জীবনের খাতা থেকে নামটাই কাটা গেলো আমার ভাইটার।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাকিবেরও শত্রু আছে ভাবিনি কখনো। যে কেউ যদি এলাকায় যায় বুঝতে পারবে রাকিব কেমন ছেলে। এমন মৃত্যু মানা যায় না।

jagonews

তারেক বলেন, ‘আমি ও পরিবারের সবাই গ্রামের বাড়িতে আসছি। রাকিবের জানাজা শেষে শনিবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মিলাদ শেষে ফিরবো ঢাকায়।’

রাকিবের বোন দোলন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আদরের ভাই আমার। ঢাকায় এসেছিলাম ওর জন্মদিন পালন করবো বলেই। কিন্তু জন্মদিনের আগের রাতেই সন্ত্রাসীরা ওকে বাঁচতে দিলো না। আগের মতো করে আর পালন করা হলো না রাকিবের জন্মদিন।’

রাকিবের বন্ধু ফয়সাল জাগো নিউজকে বলেন, গত বছরও মধ্যরাতে আচমকা কেক কেটে ওকে সারপ্রাইজ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ওকে সারপ্রাইজ দেয়া হলো না। উল্টো আমাদেরকেই আচমকা বিদায় চলে গেলো না ফেরার দেশে। আর কখনো ঘটা করে আড্ডা জমবে না। কেক কাটা হবে না। নিজের জন্মদিনও বিসর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পালন করবো না। রাকিবের খুনিরা যেন পার না পায় সেজন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

jagonews

রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা আলতাফ হোসেন। মামলা নং ৬। মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমর্থক শফিকুল ইসলাম সজিব ও জসিম নামে দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, বনানী ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। মামলার আসামিদের ধরতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনজনকে আটকের পর ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

জেইউ/এসএইচএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :