অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমলাপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

অন্য স্বাভাবিক দিনের তুলনায় শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দৃশ্য ছিল অনেকটাই ভিন্ন রকমের। শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে মানুষ আর মানুষ। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মেই ব্যাগ, লাগেজসহ পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের দিকে ছুটছেন সবাই।

এছাড়া অসংখ্য যাত্রী প্লাটফর্মে বসে অপেক্ষায় আছেন কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের জন্য। সেই সঙ্গে প্রতিটি টিকিট কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তারা চলতি ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করছেন, কারণ কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের সিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

হঠাৎ কমলাপুর রেল স্টেশনে মানুষের এমন উপচে পড়া ভিড়ের কারণ টানা তিনদিন ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। শুক্র-শনি সরকারি ছুটি এবং রোববার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। টানা তিনদিনের ছুটিতে অনেকটা ঈদের আমেজ বিরাজ করছে চাকরিজীবীদের মাঝে। হঠাৎই সাময়িক এ সুযোগ পেয়ে শীতের পিঠা-পুলি খেতে ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে ফিরছেন গ্রামের বাড়ি। আবার অনেকে এই ছুটিতে পরিবার-বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটছেন সুন্দরবন, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজারসহ দর্শনীয় সব স্থান ঘুরে দেখতে।

ইট-পাথর আর কংক্রিটে ঘেরা রাজধানীর একঘেয়েমি জীবনের সাময়িক বিরতি দিয়ে কর্মজীবী মানুষ একটু স্বস্তি পেতে যাচ্ছেন বাড়িতে অথবা দর্শনীয় স্থান ঘুরতে। যারা আগেই টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন তারা ভাগ্যবান, আর যারা আসনের টিকিট পাননি তারা স্ট্যান্ডিং টিকিটে ছুটছেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

কমলাপুর স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী নাহিদুল হক। সঙ্গে আছেন স্ত্রী ফরিদা হকও। নাহিদুল বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে আমাদের যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় আজ যাওয়া। ৩ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি। আমাদের মত বেশিরভাগ মানুষই এই ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছে। যে কারণে প্রতিটা ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

Komlapur-2

পাশেই ছিলেন আরেক দম্পতি সাবিহা আক্তার এবং সাজ্জাত হোসেন। সাজ্জাত হোসেন বলেন, এই তিন দিনের ছুটিতে একটু কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছি। ট্রেনে চিটাগাং পর্যন্ত যাব, এরপর কক্সবাজারে ছুটি কাটিয়ে সোমবার থেকে অফিস ধরব।

কমলাপুর স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রী চাপের বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তীর কক্ষে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার অফিস কক্ষে কর্মরত লিটন আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেও প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী যাচ্ছে। হঠাৎ করেই ৩ দিনের ছুটি হওয়ায় প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে হচ্ছে।

এদিকে কমলাপুর স্টেশন ছাড়াও রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলী, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, মহাখালী সব দূরপাল্লার বাস টার্মিনালেও অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এএস/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :