মানববাহী ড্রোন উড়োজাহাজ উড়ানোর স্বপ্ন ‘পিয়ন মোজাহিদের’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৩৬ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আনুমানিক ছয়-সাত বছরের দুটি শিশু একটি বাইসাইকেলের সামনে স্থাপিত জাতীয় পতাকা লাল-সবুজ রংয়ের একটি উড়োজাহাজ ও পেছনের দিকে বাক্সে সজ্জিত ড্রোনের পাখা ঘোরার শব্দ অবাক হয়ে শুনছিল।

বিশেষ মোটর মেশিনের মাধ্যমে ড্রোন থেকে নির্গত বাতাসে জাতীয় পতাকা পত পত করে উড়ারও দৃশ্যও শিশু দুটি অবাক দৃষ্টিতে দেখছিল। বিশেষ আকৃতির সাইকেল দেখতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কয়েকজন সদস্যও এ সময় ভিড় জমান। আজ ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এ দৃশ্যে চোখে পড়ে।

সাইকেলের মালিক তরুণের নাম মোজাহিদ। বয়স আনুমানিক ষোল-সতের বছর। খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা গ্রামের ইসলামিয়া কলেজ রোডের বাসিন্দা পিতৃহীন যুবক মোজাহিদ নৌ-পরিবহন অধিদফরের একটি প্রকল্পের একজন সাধারণ পিয়ন।

সাধারণ পিয়ন হলেও বিজ্ঞানমনস্ক মোজাহিদ নিজস্ব উদ্ভাবনী উপায়ে মানববাহী ড্রোন ও উড়োজাহাজ উড়িয়ে দেশের সম্মান বিশ্বদরবারে তুলে ধরার স্বপ্ন দেখেন। তার স্বপ্ন পূরনে আর্থিক অক্ষমতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারনে তিনি এসএসসি পর্য়ন্ত পড়াশুনা করতে পেরেছেন। জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঢাকা শহরে এসে চাকরি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মতিঝিলে থাকেন। পড়াশুনা বেশি না করলেও বিজ্ঞান ও নতুন কিছু আবিষ্কার করা তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা।

মোজাহিদ জানান, তিনি চার পাঁচ আসন বিশিষ্ট ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া অনুমতি পেলে তিনি উড়োজাহাজে উড়াতে পারবেন। রানওয়ে পেলে এখনই তা করে দেখাতে পারেন জানান তিনি।

তিনি জানান, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষমতা না থাকায় তিনি তার নতুন উদ্ভাবিত ড্রোন ও উড়োজাহাজ ভাল করে উড়াতে পারছেন না। তবে যন্ত্রাংশ কিনে দিতে কেউ এগিয়ে আসলে তিনি তাক লাগানো মানববাহী ড্রোন ও উড়োজাহাজ উৎপাদনে সক্ষম।

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করতে তিনি ড্রোন ও উড়োজাহাজ বানানোর স্বপ্ন দেখেন বলে জানান তরুণ এই উদ্ভাবক।

এমইউ/এমবিআর