ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক 476522, 476501, 476462
প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৯

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ। সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে স্যাপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই বৈষম্যের শিকার। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীনরা আঁতাত করে এমন ধরনের অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণা ও ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে বাজার এ অর্থের একচ্ছত্র আধিপত্য। মূলতঃ ৩০ বছর ধরে বৈষম্য চরমভাবে বেড়েই চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জনগোষ্ঠি সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। বিশ্বব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০-২০১৩ সময়ের মধ্যে দরিদ্র লোকের সংখ্যা ২৪৮.৮ মিলিয়ন হ্রাস পেলেও পালমা রেশিও (বৈষম্যের সূচক) দ্বারা দক্ষিণ এশিয়ার ১০ শতাংশ ধনী ব্যক্তির সামগ্রিক জাতীয় আয়কে (জিএনআই) ৪০ শতাংশ দরিদ্র ব্যক্তির সামগ্রিক জাতীয় আয় দিয়ে ভাগ করে দেখা যায়, উপরের ১০ শতাংশের তুলনায় নিচের ৪০ শতাংশের আয় হ্রাস পাচ্ছে।

পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ড. এমএ মতিন বলেন, ওয়াল্ড ইকোনমিক ফোরাম অর্থনৈতিক আলোচনার নামে ধনী, অভিজাত এবং বৃহৎ বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো জলবায়ুকে ধ্বংস করছে, নারী শ্রমিক ও আদিবাসী জনগণের অধিকারগুলো ছিন্ন করতে মুনাফা এবং শক্তি প্রয়োগ করছে।

বিএমএ-এর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, আমরা একটি মহৎ সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণের কথা বলছি, যেখানে সকল মানুষের অধিকার সম্মানিত এবং পরিপূর্ণ, সকল সম্ভাবনা, সুযোগ এবং খ্যাতি সবাই ভাগ করে নেয়।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এবং অন্যান্য বিশ্বের সরকার সমূহকে ধনী-দরিদ্রদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মজুরি বৈষম্য কমানো, নারীর প্রতি বৈষম্য কমানো, দেশীয় কর রাজস্ব সচল করা এবং ধনী ব্যক্তি ও কোম্পানির প্রতি অন্যায্য কর ছাড় বন্ধ করা, ধনী ব্যক্তি ও কোম্পানির ন্যায্য ভাগ পরিশোধ করা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিনিয়োগ করা, দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং সকলের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জলবায়ু রোধ বিপর্যয় রোধ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অযৌক্তিক প্রভাব দূর করা, নারী ও ক্ষুদ্র কৃষকের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাধান্য খর্ব করাসহ খাদ্যের ভ্যালি চেইনের ঘোষণ থেকে নারী ও ক্ষুদ্র কৃষককে রক্ষা করার দাবি জানানো হয়।

জেইউ/আরএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :