শুধু ভারত নয় বাংলাদেশের জন্যও হুমকির কারণ পাকিস্তান

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ভারতশাসিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জনেরও বেশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ার দিয়ে বলেছেন, হামলার জন্য দায়ীদের চড়া মাসুল দিতে হবে। ভারত সরকার ওই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করছে। এমতাবস্থায় ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৪০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন একটি এলাকায় শক্তিশালী সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকেই প্রধান মদদদাতা বলছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনেরা। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী আনন্দবাজার পত্রিকা।

পত্রিকাটির কাছে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির অংশ জঙ্গিবাদকে পালন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদের। নিহতদের পরিবারের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করছেন আওয়ামী লিগের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জমির।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার মতে, এই হামলা শুধু ভারতের ওপরে নয়, দক্ষিণ স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জিয়া রহমান বলেছেন, ‘পাকিস্তান দেশটিই হয়ে উঠছে সন্ত্রাসের প্রতীক।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাস সিংহ রায়ের মতে, এই হামলা নৃশংস, ঘৃণার। যার দায় পাকিস্তানের।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ জমির হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘এই হামলাতে নিহতের পরিবারগুলোর কাছে এবং ভারতের কাছে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব ঘটনার সহায়তা দিয়ে সব সময়ই পাকিস্তান এই অঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর কারণে এই উপ-অঞ্চলে শান্তির পরিস্থিতি বিঘ্নিত হচ্ছে।’

মোহম্মদ জমির আরও বলেন, ‘এই দেশটির এমন ভূমিকার কারণে সার্কও কার্যকর হতে পারছে না অথবা বলা যায় পাকিস্তান চায় না সার্ক কার্যকর হোক, সে কারণেই তারা জঙ্গিদের অন্য দেশে অনুপ্রবেশের জন্য আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে।’

পাকিস্তান দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অংশ হয়ে উঠেছে জঙ্গিবাদকে মদদ দেয়া বলে আনন্দবাজারকে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোহম্মদ আব্দুর রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘এই কারণে শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ এমনকি আফগানিস্তানও পাকিস্তানের এই ছকের শিকার হচ্ছে। এই মদদের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সন্ত্রাস হামলা, আতঙ্ক বাড়ছে প্রতিনিয়ত।’

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের সঙ্গেও পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়টিও বারবার আলোচনায় এসেছে বলে জানান মেজর জেনারেল রশিদ। তার মতে, সার্ক অকার্যকর হয়ে রয়েছে পাকিস্তানের কারণেই। যে দেশটির জঙ্গি মদদের বিষয়টি প্রকাশ্য, তাদের সঙ্গে বসে কীভাবে অন্য দেশগুলো আলোচনা করবে?

বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা মনে করেন এই হামলা শুধু ভারত নয়-এই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করতে করা হয়েছে। তার মতে, মাসুদ আজহার বা লাদেনের আশ্রয়দাতা পাকিস্তান চায় না কোনো শান্তির পরিবেশ থাকুক। সে কারণেই উরি থেকে পুলওয়ামায় এই ধরনের একের পর এক সন্ত্রাস হামলার পেছনে তারা মদদ দিয়ে চলেছে। হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করা জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকে পাকিস্তানই লালন করে।

তিনি বলেন, ‘এটি গ্রহণযোগ্য নয়। পাকিস্তান এখন এই উপমহাদেশের জন্যই এখন দানবিক একটি দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর আগে পাকিস্তানি জঙ্গি আটক হওয়ার ঘটনা রয়েছে। একুশে আগস্টে শেখ হাসিনার হত্যার প্রচেষ্টার অপরাধী পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা জানি।’

পাকিস্তান উপমহাদেশের একটি বিষফোঁড়া বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশটির কাজই উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়া। বাংলাদেশ কিংবা ভারত যেখানেই হোক না কেন পাকিস্তান সব সময়ই উগ্রপন্থাকে মদত দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করে। এমনকি ৯/১১-এর টুইন টাওয়ার হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহম্মদকে পাকিস্তান থেকেই আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। আর ওসামা বিন লাদেন ধরা পড়ার আগে পর্যন্ত ছিলেন পাকিস্তানেই। তাই পাকিস্তানকে একঘরে করতে পারলেই, দক্ষিণ এশিয়া সহ অন্যান্য জায়গায় জঙ্গিবাদের প্রকোপ কমবে।’

ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘পাকিস্তান উপমহাদেশসহ সারাবিশ্বেই জঙ্গিবাদকে মদদ দিয়ে আসছে। এই দেশটি তার প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সব সময়ই চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে ভারতের উচিত প্রতিবেশী অন্যান্য দেশকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চাপে রেখে জঙ্গিবাদবিরোধী ফ্রন্টে নিয়ে আসা। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে সামনের আসনে ভারতের অবস্থান। ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য। এখনই উচিত উপমহাদেশের এই বিষফোঁড়ার মতো দেশটিকে নিয়ন্ত্রণ করা।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাস সিংহ রায় বলেন, ‘এই উপমহাদেশে জঙ্গিবাদের প্রধান ও প্রথম মদদদাতা, নিজের দেশে একের পর এক জঙ্গি হামলার ঘটনার জন্য যে দেশটি বারবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠছে, সেই পাকিস্তান নিজেই প্রশ্রয় দিয়ে এমন ধরনের ঘৃন্য ঘটনা ঘটাল কাশ্মীরে। এখন সময় এসেছে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।’

তিনি বলেন, ‘একটি দেশ যখন একটি অঞ্চলের অনেকগুলো দেশের শান্তি বিঘ্নিত করে, তখন সম্মিলিত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ প্রয়োজন। বাংলাদেশে যখন যুদ্ধপরাধীদের বিচার এবং দণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, আমরা তখনও দেখেছি পাকিস্তানের সংসদে এই ঘাতকদের পক্ষে প্রস্তাব তোলা ও শোক প্রকাশের ঘটনা। যা প্রমাণ করে পাকিস্তান তার দানবিক দর্শন থেকে একটুও সরে আসেনি।’

এসআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :