বদিকে দিয়ে মাদক, শাজাহানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব?

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও ইয়াবার ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত আবদুর রহমান বদিকে দিয়ে মাদক প্রতিরোধ এবং সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব কি-না তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়কে নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নে বলেন, বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আর শাহজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব?

‘গরু-ছাগল চিনলে লাইসেন্স দেয়া যাবে শাজাহান খানের এই মন্তব্যে সারাদেশে তোলপাড় হয়েছিল। উনার এক হাসি ওই সময় দেশে কী পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাকে দিয়ে সরকারের কতখানি কমিটমেন্ট রক্ষা হবে?’

জাতীয় পার্টির এমপির এই সম্পূরক প্রশ্নের জবাব সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাকে প্রধান করার সময় উপস্থিত কারও কোনো বিরোধিতা আসেনি। এখানে তার কোনো স্মিত হাসির জন্য কী সমস্যা হয়েছে, সেটা দেখব না। এখানে ব্যক্তি কোনো বিষয় না। দেখা হবে তারা সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নে সবাই মিলে কী সুপরিশ তৈরি করেন, পেশ করেন। তার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম নেয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের জানান, সাম্প্রতিককালে দেশে দুর্ঘটনাজড়িত পরিস্থিতির কিছু অবনতি ঘটায় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা বসেছিল। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ সড়ক বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সচিব ও পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। সভায় সবার উপস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরির জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে শাজাহান খানের নামটি প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ এর প্রতিবাদ করেননি।

শাজাহান খানকে নিয়ে এমন প্রশ্নে ফখরুল ইমামের বক্তব্যের বিরোধিতা করে সরকারি দলের আরেক এমপি শামীম ওসমান বলেন, শাজাহান খান সম্মানিত ব্যক্তি। তার হাসি নিয়ে কিছু ঘটেছে, নাকি কেউ ঘটিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রত্যাহার বা একপাঞ্জের দাবি শাজাহন খানের

প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়তে দাঁড়ান শাজাহান খান। ফখরুল ইমামের বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানান এবং তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার অথবা স্পিকারকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান তিনি। এসময় তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে দাবি করে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিজের বিভিন্ন ভূমিকা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে গতকাল রোববার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টায় সরকার ১৫ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। অন্যদিকে নবম ও দশম সংসদে কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এবারের নির্বাচনে তাকে এ কারণেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না দিয়ে তার স্ত্রীকে দেয়া হয়েছে বলে দলের মধ্যেই আলোচনা আছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণের নেপথ্যেও তার ভূমিকা রয়েছে।

এইচএস/জেএইচ/জেআইএম