রাজধানীর অর্ধেক এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন স্থানান্তরের কারণে আবারও আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর প্রায় অর্ধেক এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এলাকাগুলো হচ্ছে- মিরপুর, শ্যামলী, মনিপুরীপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, কলাবাগান, হাজারীবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, শাহবাগ, গ্রীনরোড, পুরান ঢাকা সমগ্র এলাকা, বঙ্গভবন, গোপীবাগ, স্বামীবাগ, রামপুরা এলাকা, দক্ষিণ বনশ্রী, নন্দিপাড়া, মগবাজার, সিদ্ধেশ্বরী, সেগুনবাগিচা, মিন্টু রোড, তেজগাঁও, খিলগাঁও, বাসাবো, মতিঝিল, কমলাপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকা।

সোমবার তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে এসব স্থানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়ায় সিটি গ্যাস স্টেশনে (সিজিএস) ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের ত্রুটি মেরামতের জন্য এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে শনিবার সকাল থেকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, শ্যামলী, আগারগাঁও, ধামরাই, আশুলিয়া, আমিনবাজার ও সাভারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য গ্যাস পাইপ লাইন স্থানান্তর করতে হচ্ছে। এ জন্য এই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুরনো লাইনের সঙ্গে নতুন লাইনের সংযোগ দেয়া হলে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কাজ শেষ হলে বুধবার সকাল ৮টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

উল্লেখ্য, এখন গড়ে দিনে গ্যাস পাওয়া যায় এক হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে। ফলে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম হচ্ছে। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অধীনে যে গ্রাহক আছে তাদের পূর্ণমাত্রায় সরবরাহ করতে হলে দৈনিক দুই হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দরকার হয়। দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেলে চাহিদা মোটামুটি পূরণ করা যায়।

২০১৬ সালে মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে। সময় লাগবে ৪০ মিনিটেরও কম। প্রতি চার মিনিট পরপর ১ হাজার ৮০০ জন ও ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করবে মেট্রোরেল।

মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন হবে- উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায়।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেবে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার।

এমএমজেড/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :