চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি : দেখেশুনে পদক্ষেপ নিতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
চাকরি প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছেন

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরে আলোচিত হলেও এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যদিও বয়স বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তবে সরকার দেখেশুনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

‘আগামী মাস থেকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হচ্ছে’ বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্ধৃত করে সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। যদিও পরে ওবায়দুল কাদের এমন বক্তব্য দেয়ার কথা অস্বীকার করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সরকারি চাকরিতে বয়স বাড়ানোর বিষয়ে নতুন কোনো খবর নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এ সংক্রান্ত ফাইল এখনও মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসেনি।

তিনি বলেন, ‘সরকার একটু দেখেশুনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। এর ইম্প্যাক্টগুলো কী হতে পারে, তা হয়তো দেখছে। এ ছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়লে অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টিও এসে যায়। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সঙ্গে অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়টিও একসঙ্গে নিয়ে আসা হতে পারে।’

গত মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের নির্দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রবেশের বয়স ৩২ বছর করতে এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও পাঠানো হয়। কিন্তু এর মধ্যেই নির্বাচন এসে যাওয়ায় এ বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অপরদিকে শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের দিকে তাকিয়ে অনেকেই আর ৫৯ বছরকে চাকরি থেকে চলে যাওয়ার বয়স মনে করছেন না। তাই প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাকরি থেকে অবসরের বয়স বাড়ানোরও দাবি রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। আর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫৯ বছর। মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০ বছর।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের এখনও কোনো নির্দেশনা দেননি। তাই এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের এখান থেকে আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, সেটিও ওভাবে আছে।’

দেশে বেকারত্বের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, উচ্চশিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট, গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দাবি আদায়ে কয়েকবার রাজপথেও নেমে এসেছিলেন তারা। এই দাবি সংসদেও উঠেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবি নাকচ করে দেয়া হয়।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর মাস দুয়েক পর চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়াতে ফাইল প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।

আরএমএম/জেডএ/জেআইএম