মামলার রায় বাংলায় লিখুন : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:০৬ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চ আদালতের বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, দেশের স্বল্পশিক্ষিত ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মামলার রায় বাংলায় লিখুন। তাহলে রায় নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে না। আইনজীবীরাও বিচারপ্রার্থীদের ভুল বুঝাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনীে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি কম জানার কারণে রায়ে কী আছে জানার জন্য অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীকে তার আইনজীবীর ওপর নির্ভর করতে হয়। রায়ে কী আছে তা বিচারপ্রার্থীর বোঝার সুযোগ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে এ কারণে তাদের হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

তিনি বলেন, যারা আদালতে রয়েছেন তারা যদি মাতৃভাষায় রায় লেখার অভ্যাসটা করেন তাহলে স্বল্প শিক্ষিতদেরও রায়টা পড়ে বোঝার সুবিধা হবে। তাদের অন্য কারও ওপর এজন্য নির্ভরশীল হতে হবে না। নিজেরাই বুঝতে পারবে রায়ে কী আছে। সেটা আমার একটা অনুরোধ থাকবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আর রায়ের ভাষা যদি ইংরেজিও হয় তাহলে রোমান স্টাইলে না লিখে একটু সহজ ইংরেজিতে লেখা, যে ভাষাটা সকলেই বুঝতে পারে সেই ভাষাতেই লেখা উচিত। বাংলায় রায় লিখে সেটাও ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন করে দিতে পারেন।’

বাংলাকে বিশ্বের অন্যতম বৈজ্ঞানিক ভাষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা বাংলা শেখার ব্যাপারে ইংরেজির মতো অত গুরুত্ব দিই না। তাই অনেকের কাছে বাংলা কঠিন বলে মনে হয়।’

তিনি বলেন, বানান ও উচ্চারণ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে অনেক সময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও এটি খুব বড় বিষয় নয়। ‘ছেলে-মেয়েদের ভাষা শেখার ভিত্তি কীভাবে শক্ত করা যায় তা নিয়ে সকলের ভাবা উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ইংরেজিটা আমাদের শিখতে হবে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাষা, মাতৃভাষা, যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, সেই ভাষাটাও সঠিকভাবে সবাই যেন শিখতে পারে তার ব্যবস্থা করাটাও একান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।

দেশে তার সরকার এখন শিক্ষার হার বাড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে তখন অর জ্ঞানসম্পন্ন লোকের সংখ্যা ছিল কেবল ৪৫ ভাগ।

শেখ হাসিনা বলেন, আইনজীবী যা বুঝিয়ে দেবেন সেটিই তাকে (স্বল্পশিক্ষিত সাধারণ জনগণকে) বুঝতে হবে, নিজে পড়ে জানার কোনো সুযোগ তার থাকে না। যার ফলে অনেক সময় তাদের নানারকম হয়রানির শিকার হতে হয়।

তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমি বলব- আদালতের রায়টা যদি কেউ ইংরেজিতেও লিখতে চান, লিখতে পারেন কিন্তু একটা শর্ত থাকবে যে, এটা বাংলা ভাষায় প্রচার করতে হবে, প্রকাশ করতে হবে।’

এফএইচএস/বিএ