দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখলেন রেলমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাস্থল পুরান ঢাকার চকবাজার পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

শুক্রবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকার্ত পরিবার সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ সঙ্কটকালে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘এ রকম ভয়ানক দুর্ঘটনায় সারা দেশবাসীর মতো সরকারের মন্ত্রী হিসেবে আমি নিজেও অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে নিহত ও আহতদের সাহায্য করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সবকিছু তদারকি করছেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

পরে মন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এ সময় তিনি আহতদের বিষয়ে খোঁজ নেন এবং তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এ সময় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেন উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তা পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনায় ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। তবে ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ৬৭ জন। এদের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। সঙ্গেহ দাফন বাবদ ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রাজধানীর চকবাজারে কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে মত দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তদন্ত কমিটি।

আজ শুক্রবার সকালে ডিএসসিসির ১১ সদস্যের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান এ মত দেন।

তিনি বলেন, ‘ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এছাড়া আরও অন্যান্য কেমিক্যাল ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হতো এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমের মতো কাজ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। যা যা ছিল, সেগুলো এক ধরনের কেমিক্যাল। ক্যামিকেলের জন্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে বেশি।’

আরএম/এসআর/পিআর