নির্বাচনী প্রচারণায় জমে উঠেছে মান্ডা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কাউন্সিলর নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে রাজধানীর মান্ডা এলাকা (৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ড)। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই গণসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের পাশাপাশি দুই সিটি কর্পোরেশনে নতুনভাবে যুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচন। যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড।

রাজধানীর মুগদা থানার মান্ডায় এ দুটি ওয়ার্ড। মান্ডার প্রধান সড়কের উত্তর পাশে ৭২নং এবং দক্ষিণে ৭১নং ওয়ার্ড। ৭১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার এবং ৭২ এ প্রায় ১২ হাজার। দুই এলাকায় একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। সবাই মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

৭১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন মান্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খাইরুজ্জামান খাইরুল (রেডিও), আলহাজ সামিদুল হক গোগা (ঘুড়ি), ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি হাজি মো. বিপ্লব হোসেন (মিস্টি কুমড়া), মাহবুব আলম স্বপন (ব্যাডমিন্টন রেকেট) ও সাইফুল ইসলাম রতন (লাটিম)।

manda

৭২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, মান্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলম শামীম (ব্যাডমিন্টন রেকেট), মো. মুনির হুসাইন সাঈদ (লাটিম), মো. শরীফ হোসেন (ঠেলাগাড়ি), শাহ আলম হক রিপন (রেডিও)।

এছাড়া ৭০, ৭১ ও ৭২ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে। এ পদের প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন রোকসানা আক্তার (বই), সেলিনা খান (চশমা), বকুল আক্তার (আনারস) ও আফসানা খানম (মোবাইল)।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ঝুলছে পোস্টার। চলছে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় সভা। অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় মিছিল-মিটিং আর মাইকিংয়ে চলছে নির্বাচনী গান ও প্রচারণা। নির্বাচনী ক্যাম্পে চলছে কর্মী-সমর্থকদের আড্ডা। ভোটের হওয়ায় পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ।

নবগঠিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রত্যেকেই গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। তবে কাউন্সিলর কে হবেন, কেমন কাজ করবে এসব নিয়েই এলাকাবাসীর আলোচনা বেশি।

৭২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে ব্যাডমিন্টন রেকেট মার্কার শফিকুল আলম শামীম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এলাকার মুরুব্বি ও যুব সমাজ সঙ্গে রয়েছে। তারা সবাই আমার হয়ে কাজ করছে। ২৮ ফেব্রুয়রি ব্যালটের মাধ্যমে এলাকাবাসী আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে আশা করছি।

জয়ী হলে মাদক মুক্ত এলাকা গড়াই হবে প্রথম কাজ উল্লেখ করে কাউন্সিলর প্রার্থী শামীম বলেন, এলাকায় মাদক একটি বড় সমস্যা। এতে যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। এটি নির্মূল করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

ele2

একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মুনির হুসাইন সাঈদ বলেন, এলাকাবাসী সঙ্গে রয়েছেন। প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকলে ইনশাআল্লাহ জয়ী হবো। আর জয়ী হলে আধুনিক ওয়ার্ড গঠনে কাজ করবো।

অপর প্রার্থী শরীফ হোসেন বলেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আহল্লাহর রহমতে শতভাগ জয়ী হবো। বিজয়ী হলে উত্তর মান্ডাকে মডেল ওয়ার্ড করা হবে।

৭১নং ওয়ার্ডের অন্যতম কাউন্সিলর প্রার্থী সামিদুল হক গোগা। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আামার প্রতি এলাকাবাসীর আস্থা রয়েছে। জয়ী হলে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করবো। এছাড়া গ্যাস, খেলার মাঠ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নসহ আধুনিক ওয়ার্ড গঠনে কাজ করবো।

তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে উল্লেখ করে সব প্রার্থীই বলেন, এখানে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা সবাই একে অন্যের আত্মীয় ও পরিচিত। তাই সহিংসতার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ele3

মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লব হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, প্রচার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি বিজয়ী হবো। কাউন্সিলর হলে প্রথম কাজ হবে এলাকা মাদকমুক্ত করা। এছাড়া এখানে অনেক সুবিধাবঞ্চিত লোক আছে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

এছাড়া রেডিও প্রতীকের খাইরুজ্জামান খাইরুল পরিকল্পিত নগরায়নের সুব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

এসআই/এএইচ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :