টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৬২ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৯

রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যালের কারখানা থাকায় আজসহ গত ১৪ দিনের অভিযানে ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) গঠন করা টাস্কফোর্স।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, অভিযান চালিয়ে ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তপক্ষকে (রাজউক) বলা হয়েছে। ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেয়া হয়েছে এবং ৯৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৬টি প্রতিষ্ঠানের পুণঃসংযোগ দেয়া হয়েছে।

সোমবারের (১৮ মার্চ) অভিযানে ৪৩, ৫৪, ৭৯, খাজে দেওয়ান ১ম লেন, ১, ১৬/৭, ১৬/৬, ১৬/৭, জয়নাগ রোড ইত্যাদি এলাকায় আলতা কারখানা, প্লাষ্টিক কারখানা, পলিথিনের কারখানা এসএম প্যাকেজিং, তার তৈরির কারখানা পাওয়া গেছে। অতি দাহ্য কোনো বস্তু না থাকা এবং অগ্নি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ১৯ জয়গান রোডে লামিয়া এন্টারপ্রাইজের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

৩৬/১, জুড়িয়াটুলি লেন হোল্ডিংটিতে পরিবেশের ক্ষতিকারক নিকেলের কারখানা পাওয়া গেছে। নিকেলের কেমিক্যালের দুর্গন্ধে এলাকায় প্রবেশ করা যেত না। এই কেমিক্যাল কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ২০ বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই দিনের মধ্যে সমস্ত কেমিক্যাল সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৩২নং ওয়ার্ডের কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে গোডাউনের তালিকা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ৬৪ নম্বর হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় মোট ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আগুনের কারণ হিসেবে কেমিক্যালকেই দায়ী করা হচ্ছে।

তাই পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনগুলো থেকে কেমিক্যাল সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিএসসিসি। মেয়র সাঈদ খোকনের নির্দেশে টাস্কফোর্স গঠন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় আবাসিক ভবন থেকে কেমিক্যাল অপসারণ অভিযান।

এএস/এমএসএইচ/এমএস