৩১ মার্চ ১১০ উপজেলায় যানবাহন ও নৌ চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:২০ এএম, ২১ মার্চ ২০১৯

পঞ্চম উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ ধাপে ১৯ জেলার ১১০ উপজেলায় ভোট হবে ৩১ মার্চ। ওইদিন এই উপজেলাগুলোতে যানবাহন ও নৌ চলাচল বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সংক্রান্ত দুটি চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে।

সেই সঙ্গে এই ১১০ উপজেলায় ভোটগ্রহণের আগের দুইদিন থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ইসির চিঠিতে বলা হয়।

নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান সই এক চিঠিতে বলা হয়, ‘৩১ মার্চ (রোববার) উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের আগের দিন (৩০ মার্চ) রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন (৩১ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। যানবাহনগুলোর মধ্যে রয়েছে বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশা/ইজিবাইক, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো।’

তার সই করা অন্য চিঠিতে বলা হয়, ‘উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য ভোটের আগের দিন রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সবধরনের নৌযান ও স্পিডবোট বন্ধ থাকবে। তবে সবধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। বিশেষ করে ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্র নৌযান বা জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃদ ছোট নৌযান চলতে পারবে।’

নৌ ও যানবাহন উভয়ের ক্ষেত্রেই নির্দেশনায় বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আর ইসির পরিচয়পত্র থাকা সাংবাদিক, নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য উল্লিখিত নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।

নৌ-পরিবহনের বিষয়ে আরও বলা হয়, ভোটার ও জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে সব নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে ও দূরপাল্লার নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। যানবাহনের বিষয়ে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

যেসব উপজেলায় বন্ধ থাকবে যানবাহন ও নৌ চলাচল
১৯ জেলার ১১০টি উপজেলায় ভোট হবে। এর মধ্যে পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী সদর, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকী ও বাউফল উপজেলা; ভোলা জেলার দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলা; বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা উপজেলা; পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, মঠবাড়িয়া, কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া, নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলা।

যশোর জেলার যশোর সদর, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা; খুলনা জেলার দিঘলিয়া, কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলা; বাগেরহাট জেলার বাগেরহাট সদর, মোংলা, মোরেলগঞ্জ, চিতলমারী, কচুয়া, রামপাল, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলা।

ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ সদর, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল, গৌরীপুর, নান্দাইল, মুক্তাগাছা ও ভালুকা উপজেলা; নরসিংদী সদর; মুন্সীগঞ্জ জেলার মুন্সীগঞ্জ সদর, সিরাজদিখান, লৌহজং, শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ী ও গজারিয়া উপজেলা; নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জ উপজেলা; ঢাকা জেলার ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা।

টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর, ধনবাড়ী, মধুপুর, মির্জাপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ঘাটাইল, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর, বাসাইল ও সখিপুর উপজেলা; কুমিলা জেলার তিতাস, বরুড়া, মুরাদনগর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মেঘনা ও হোমনা উপজেলা; নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, কবিরহাট, সুবর্ণচর ও চাটখিল উপজেলা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, নাসিরনগর ও নবীনগর উপজেলা; ফেনী জেলার ফেনী সদর. ফুলগাজী, সোনাগাজী, দাগণভূঁঞা ও ছাগলনাইয়া উপজেলা; কক্সবাজার সদর এবং দিনাজপুর সদর।

পিডি/বিএ