ভয় দেখিয়ে বন রক্ষা সম্ভব নয়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৯

বন রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। বনকে ভালোবেসেই একে রক্ষা করতে হবে। কাউকে ভয় দেখিয়ে বন রক্ষা হয় না, সম্ভব নয়। বন না বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। বন দেশের সম্পদ, জনগণের সম্পদ। সে কারণে জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে বন বাঁচাতে। উপকূলে বন মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। বন দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার বন অধিদফতরের হৈমন্তি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বন দিবস। জাতীয়ভাবে দিবসটি উদযাপনের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. বিল্লাল হোসেন; ইনস্টিটিউশন অব ফরেস্টারস, বাংলাদেশের সভাপতি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান ও সুফল প্রকল্পের কনসালটেন্ট রুহুল মোহাইমেন চৌধুরী।

সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, ‘সুন্দরবন বাংলাদেশের গর্ব। বাংলাদেশ বললেই সুন্দরবনের নাম চলে আসে। এ বন রক্ষায় যা যা করা তাই করতে হবে। সুন্দরবনের আশপাশের জনগণও যেন একটু ভালো থাকে সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

বন রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, ‘বন ব্যবস্থাপনাকে গণমুখী করার লক্ষ্যে এবং বন ব্যবস্থাপনায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য সরকার সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ও সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করেছে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বন ব্যবস্থাপনায় সরকারি নজরদারির পাশাপাশি বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে যৌথ বন পাহারা দল গঠন করে বন সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার রক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনার জন্য রক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৭ প্রণয়ন করেছে, যা জনগণকে সম্পৃক্ত করে রক্ষিত এলাকা ব্যবস্থপনা নিশ্চিত করবে। সরকার উপকূলীয় অঞ্চল, সুন্দরবন, পাহাড়ি বনাঞ্চলসহ অন্যান্য বন সংরক্ষণের জন্য তিনটি বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে একদিকে যেমন উপকূলে নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বনের জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

এফএইচএস/এসআর/এমকেএইচ