বার বার ‘তদন্তের কবলে’ সংসদে কর্মরতরা

সিরাজুজ্জামান
সিরাজুজ্জামান সিরাজুজ্জামান , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১১ পিএম, ২৪ মার্চ ২০১৯

নতুন নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ব্যাপারও নেই তবুও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত প্রায় ১২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বার বার পুলিশি তদন্তের শিকার হচ্ছেন। হয়রানি ছাড়াও নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ায় তারা বিব্রত বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয়ে চাকরি পাওয়ার পর থেকে অনেকেই সাত-আট বার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে এ তদন্ত করা হয়। আবার নতুন করে সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত ১১ ধরনের তথ্য, পিতা-মাতা-সংক্রান্ত ১২ ধরনের তথ্য, ভাই-বোন-সংক্রান্ত চার ধরনের তথ্যা, বিয়ে-সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের তথ্য এবং সন্তান-সংক্রান্ত চার ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে বিগত পাঁচ বছরে কে কোন ঠিকানায় বসবাস করেছেন তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনো দেশ ভ্রমণ করলে তার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। চাওয়া হয়েছে ব্যাংক হিসাব নম্বর এবং শাখার নামও। এ নিয়ে সবার মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে এজন্য সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খানের সঙ্গে দেখা করেন সংসদে কর্মরতরা। তবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।

সিনিয়র সচিবের সঙ্গে দেখা করার সময় সংসদের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, সাধারণত চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার আগে ও পদোন্নতির সময় এ ধরনের তদন্ত হয়। কেউ সন্দেহজনক কাজ করলেও তদন্ত হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আছেন তাদের বিষয়েও সন্দেহজনক কিছু হলে তদন্ত হতে পারে। কিন্তু সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস বার বার অযথা তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছেন। এছাড়া অনেকের মোবাইলেও আঁড়িপাতা হচ্ছে।

এক কর্মকর্তা জানান, সংসদের ভেতরে ছবি তোলার অপরাধে একজনের চাকরি গেছে। তাকে জেলও খাটতে হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার জেরে সংসদে কর্মরত সবার ব্যাপারে আবার তদন্ত করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে সচিব জাফর আহমদ খান জাগো নিউজকে বলেন, তথ্য তাদের দিতে হবে। কারণ এটি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নির্দেশ। তবে অযৌক্তিক কোনো তথ্য চাওয়া হলে তা বাদ দেয়া যায় কিনা সেটা দেখা হবে।

সংসদের নিরাপত্তা বিষয়ক এক কর্মকর্তা জানান, সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নানা বিভ্রান্তকর তথ্য দেন। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও গুরুত্ব জাহিরের জন্য তিলকে তাল করে দেখান। একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে নানা ধরনের কাজ করা হচ্ছে। এসব তদন্ত তারই অংশ।

এ বিষয়ে সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস ক্যাপ্টেন মোস্তাক আহমদ বলেন, এসব তদন্ত একটি চলমান ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিভিন্ন কারণেই তদন্ত করতে হয়। কাউকে হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সবার নিরাপত্তা দেখভালের জন্য আবার নতুন করে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এইচএস/এএইচ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :