৩ পাসপোর্ট অফিসে দুদকের হানা, আটক ৩

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ২৫ মার্চ ২০১৯

পাসপোর্ট প্রদান সংক্রান্ত নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে দেশের তিনটি পাসপোর্ট অফিসে একযোগে হানা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্র (হটলাইন- ১০৬) থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে সোমবার এ অভিযান পরিচালনা করে পৃথক তিনটি এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে পুলিশসহ সাত সদস্যের একটি টিম ঢাকার আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিন উপস্থিত হয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পান।

দুদক টিম ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে বিভিন্ন দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটক করে। তারা পরস্পর যোগসাজসে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার নিকট থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এ অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে রাজধানীর শেরে-বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- সৈয়দ আল আমিন, রাজু আহমেদ ও মো. রহিজ উদ্দিন। তাদের কাছ থেকে ১৩টি পাসপোর্ট ও নগদ ২৭ হাজার ৬২৩ টাকা উদ্ধার করেন দুদক টিমের সদস্যরা।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে দালালদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি না থাকলেও অফিসের অদূরে অবস্থিত ফটোকপির দোকানসমূহে তারা (দালালরা) অবস্থান করছেন বলে জানতে পারেন। পরে দুদক টিম জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালককে দালালদের দৌরাত্মের বিষয়ে সচেতন করেন এবং স্থানীয়দের পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) জানানোর পরামর্শ দেন।

সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে দুদকের অপর এনফোর্সমেন্ট টিম দিনাজপুর পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা অনিয়মের অস্তিত্ব পান। তারা পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে এবং বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে পাসপোর্ট করতে আগ্রহীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে, স্থানীয় এক দালাল আনসার সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি, দালালি ও ফর্ম পূরণের কাজ করে থাকেন।

অভিযানে দুদক টিম আরও জানতে পারে যে, একজন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং আবেদনপত্রে ভুল না থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেন। ফলে বাধ্য হয়ে সেবাপ্রার্থীরা দালালদের শরণাপন্ন হন। এ বিষয়ে জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন মর্মে দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন।

এমইউ/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :