চাঁদাবাজদের মার খেয়ে ফেসবুক লাইভে বিচার চাইলেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ঠিকাদার মোহাম্মদ ওমর। পাশাপাশি ঢাকা উত্তরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক তিনি। ডিপিডিসির একটি ঠিকাদারি কাজ করার সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে চাঁদাবাজরা। প্রতিবাদ করলে গুলশানে প্রকল্প অফিসে তাকে বেধরক মারধর করে তারা।

পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে মারধরের দৃশ্য দেখলেও এগিয়ে আসেননি। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুক লাইভে এসে জাতির কাছে এই হামলার বিচার চান তিনি।

শনিবার ফেসবুকে ভাইরাল হয় তার ওই লাইভ।

লাইভ সম্পর্কে মোহাম্মদ ওমর জাগো নিউজকে বলেন, এখনকার ঠিকাদারি ব্যবসা আগের মতো নাই, যে যেভাবে খুশি সেভাবে ফাঁকি ঝুঁকি দিয়ে কাজ করবে। এখন কাজ স্বচ্ছ হতে হয়। এমনিতেই লাভ কম, এর মধ্যে চাঁদাবাজরা ৫ লাখ টাকা দাবি করেছে। স্বচ্ছভাবে কাজ করে তাদের চাঁদা দিলে লাভ থাকবে না। তাই আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এরপর তারা আমার অফিসে এসে আমাকে মেরে রক্তাক্ত করে।

পুলিশকে না জানিয়ে কেন লাইভে বিচার চাইলেন- জানতে চাইলে ওমর বলেন, ‘আমাকে যখন চাঁদাবাজরা মারধর করছিল তখন আনসার পুলিশের সদস্যরা তাকিয়ে দেখছিল। কেউ বাঁচাতে আসে নাই। তাই আমি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি, সেখানে বিচার চেয়েছি।’

লাইভটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনাটি ১০ এপ্রিলের। আমি তখনই লাইভটি করেছিলাম। কিন্তু মোবাইলে মেগাবাইট না থানায় তখন আপলোড হয়নি। সেদিন রাতেই ইন্টারনেট কেনার পর সেটি আপলোড দেই। তবে এখন এটি ভাইরাল। কারও কাছে সাহায্য না পেয়ে মাথা গরম করে লাইভটি করি।

লাইভে ওমর বলেন, ‘স্থানীয় চাঁদাবাজরা আমার কাছে চাঁদা চাইছে ৫ লাখ টাকা। আমি দিই নাই দেইখা, দিতে রাজি হই নাই দেইখা, স্থানীয় পোলাপান আইসা আমারে অফিস থেকে নামাইয়া ইচ্ছামতো পিটায়া, জনগণের সামনে ইচ্ছামতো পিটায়া চইলা গেছে এবং সরকারের আইন-শৃঙ্খলার আনসাররা থাকা অবস্থায়ও আমারে সেফ করে নাই। আমারে কুত্তার মতো মারছে।’

ওমর জানান, তিনি ৯০ লাখ টাকার ডিপিডিসির একটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছেন। এর জন্য পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন জনৈক রিয়াদের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু লোক। গত বৃহস্পতিবার গুলশান প্রকল্প অফিসে গেলে আবারও চাঁদা দাবি করে রিয়াদ ও তার লোকজন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়, অফিসের বাইরে নিয়ে এসে ওমরকে মারধর করা হয়।

হামলা ও মামলার বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় রিয়াদকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এআর/জেডএ