ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় মালিবাগের ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

বৃহস্পতিবারের সকালটা অন্য দিনগুলোর মতো ছিল না মালিবাগ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য। সকালটা তাদের শুরু হয়েছে দুঃসংবাদ দিয়ে। সূর্য ওঠার আগেই বাজারটির তিন শতাধিক ব্যবসায়ী ছুটে আসেন মালিবাগ মোড়ে। নিরুপায় হয়ে অনেকটাই দাঁড়িয়ে তাদের দেখতে হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার দৃশ্য।

ভোর ৫টা ২৭ মিনিটের দিকে মালিবাগ কাঁচাবাজারে যখন আগুন লাগে তখনও ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠানের ঝাঁপ খোলেননি। ঝাঁপ যতক্ষণে খোলা হলো তার আগেই পুড়ে অঙ্গার হয়েছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, মাছ, মুরগি, সবজি, নানা রকম ফল, চাল, ডাল ও নানা রকম মসলা।

আগুনের খবর পেয়ে ভোরেই ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রথমে দুটি এরপর পর্যায়ক্রমে ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিভিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চলে যাওয়ার পর ধ্বংসাবশেষের মধ্যে শেষ সম্বলটুকু খুঁজতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। দু-একজন পোড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে কিছু পণ্য উদ্ধার করতে পারলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ীর সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

Fire

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দেখা যায়, কোনো কোনো ব্যবসায়ী পোড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বেঁচে যাওয়া পণ্যগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীকে তাদের পুড়ে যাওয়া দোকান ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা চাল-ডাল রাস্তার ওপর রেখে শুকানোর চেষ্টা করছেন।

আগুনে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানর সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিটি ব্যবসায়ীর মুখে রাজ্যের হতাশা। কেউ কেউ হতভম্বের মতো বসে আছেন পোড়া দোকানের মধ্যে। এরপরও আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন বেশকিছু ব্যবসায়ী। কোনো কোনো ব্যবসায়ী বললেন, ‘যে কোনো জায়গা থেকে সামান্য সহায়তা পেলেই তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।’

রাস্তার ওপর পলিথিনের ওপর কিছু ডাল রেখে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায় সুমনকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মুদির দোকানে ৩০ লাখ টাকার ওপরে পণ্য ছিল। দোকানে চাল-ডাল যা ছিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু এই ডালগুলো রক্ষা করতে পেরেছি। তা-ও এগুলো শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা বলতে পারছি না। কারণ পানিতে সব ভিজে গেছে।’

Fire

তিনি বলেন, ‘এই মার্কেটে আগে কখনো আগুন লাগেনি। আজ কীভাবে আগুন লাগল কিছুই বুঝতে পারছি না। আর আগুন এমন সময় লাগল, যখন সবার দোকান ভর্তি মাল। দু’দিন পরেই শবে বরাত এবং কিছুদিন পরেই রোজা, তাই সবাই দোকানে পণ্য এনে মজুদ করে রেখেছেন। এই আগুনে সবার প্রচণ্ড ক্ষতি হয়ে গেল।’

আগুনে মালামাল পুড়ে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয় বলে মন্তব্য করেন সুমন। তিনি বলেন, ‘এরপরও বেঁচে থাকলে হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো যতদ্রুত সম্ভব আবার দোকানে মালামাল আনার। আমাদের অনেক ক্রেতা আসে রেগুলার। রোজার মধ্যে তাদের পণ্য সরবরাহ দিতে না পারলে আমরা ওই ক্রেতাগুলো হারাবো। তাই যেভাবেই হোক দ্রুত আবার স্বাভাবিক ব্যবসা শুরু করতে হবে।’

হতভম্বের মতো দোকানের পোড়া পণ্যের মধ্যে বসে থাকতে দেখা যায় মসলার ব্যবসায়ী হাসানকে। তিনি বলেন, ‘আমার যা ছিল সব শেষ। সবকিছু পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কোনো কিছু অবশিষ্ট নেই। শবে বরাত, রোজা উপলক্ষে কিছুদিন আগে ১০ লাখ টাকার মাল এনেছি। এখন হাতে আর কোনো টাকা নেই। কীভাবে আবার দোকান দাঁড় করাবো শুধু সেই চিন্তা করছি।’

Fire

তিনি বলেন, ‘যে করেই হোক এই দোকান তো আবার দাঁড় করাতেই হবে। তা নাহলে সংসার চালাবো কীভাবে? ছেলে-মেয়েদের পড়াবো কীভাবে? কিন্তু টাকা কোথা থেকে আসবে বুঝতে পারছি না। কোনো জায়গা থেকে সামান্য সহযোগিতা পেলেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো বলে আশা করছি। দেখা যাক সামনে কী হয়?’

এমএএস/এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :