শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব শবে বরাতে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:১৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় গির্জা, হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুই শতাধিক নিহত ও সাড়ে চারশত আহত হয়েছে। এ হামলার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে শবে বরাতের অনুষ্ঠানে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শবে বরাতের রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার লোকজন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন মসজিদ ও বিভিন্ন কবরস্থান জিয়ারত করেন।

সরেজমিনে আজিমপুর নতুন ও পুরাতন কবরস্থান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই কঠোর। রাস্তায় কারো হাতে ব্যাগ দেখলেই তল্লাশি করতে দেখা যায়।

southeast

অন্যান্য বছর আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর ও দক্ষিণ গেটের বাইরে এলোমেলোভাবে ভিক্ষুকরা অবস্থান করলেও এ বছর ভিক্ষুকদের সারিবদ্ধভাবে বসতে বাধ্য করে পুলিশ। কবরস্থানের ভেতরে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের বসতে দেয়া হলেও এ বছর কাউকে ভেতরে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিরাপত্তারক্ষীরা বারবার টহল দিয়ে স্বল্প সংখ্যক ভিক্ষুক যারা আগে থেকে অবস্থান করছিল তাদের বাইরে চলে যেতে নির্দেশ দেয়।

নির্দিষ্ট সময় পরে বাইরে না গেলে তাদেরকে ভবঘুরে কেন্দ্রে পাঠানোর হুমকিও দেন। দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যরা গোটা এলাকা ঘুরে টহল দিচ্ছেন। কবরস্থানের বাইরে থাকলেও সে তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেছে। তদুপরি রাতের বেলায় হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় লোকজনের উপস্থিতি আরও কমে যায়।

southeast

তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শবে বরাতের রাতে বাড়তি উপার্জনের আশায় ভিক্ষুকরা ঝড় বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় অবস্থান করতে থাকেন। নিউ মার্কেটের সামনে কয়েকজন যুবককে ওজু করার জন্য টাকার বিনিময় পানি ও বদনা ভাড়া দিতে দেখা যায়। মসজিদ ও মাদরাসার জন্য অনেকেই সাহায্য তুলছিলেন।

পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ঘুরেফিরে লোকজনের গতিবিধি ফলো করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলার কারণে কিনা জানি না উপরমহল থেকে আজিমপুর কবরস্থান-এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়। ছোট-বড় ব্যাঙ্ক দেখলেই যেন তল্লাশি করা হয় এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

এমইউ/এমআরএম

আপনার মতামত লিখুন :