এ যেন এক ঘুমন্ত নগরী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯

দুপুর পৌনে ১টায় শাহবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে টঙ্গীগামী একটি বাসের হেলপার উচ্চস্বরে ক্রমাগত বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মহাখালী, বনানী, এয়ারপোর্ট বলে ডেকেই চলেছে। বেশ কয়েকমিনিট বাস থামিয়ে ডাকাডাকি করে যাত্রী পেলেন মাত্র তিনজন। এরপর তিনি ড্রাইভারের উদ্দেশে চিৎকার করে বললেন- ‘ওস্তাদ, ঢাকা শহরের মানুষ এখনও ঘুমাইতাছে। সামনে টানেন।’

একই স্থানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মজনু মিয়া। সকাল থেকে কয়টা ট্রিপ মেরেছেন- জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ‘এহনও ট্রিপ পাই না (পাইনি), আইছি সকালে। এহন তবুও তো কিছু মানুষ রাস্তায় বাইর অইছে। সকালে রাস্তাঘাট আরও ফাঁকা ছিল।’

dhaka

দুপুর গড়াতে চললেও এখনও আড়মোড়া দিয়ে জেগে ওঠেনি ঢাকা শহর। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করে কাটিয়ে এখনও শহরের অধিকাংশ মানুষ ঘুমাচ্ছে। শবে বরাত উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। ফলে চাকরিজীবীরা ঘরের বাইরেই বের হননি। বাইরে আবহাওয়া বেশ গরম হওয়ায় নিতান্তই প্রয়োজন না হলে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না।

dhaka

রাজধানীর নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, লালবাগ, রমনা থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ফাঁকা। দৃশ্যত এ যেন এক অচেনা ঢাকা। অন্যান্য দিন দুপুরের দিকে যেসব রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট লেগে থাকে, বাসে ওঠার জন্য অসংখ্য মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলে। সেখানে যানজট তো দূরের কথা অনেকক্ষণ পর পর দু-একটি বাস চলাচল করলেও তাতে খুব কম লোকজকেই উঠতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী লোকজন স্ট্যাটাস দিয়ে জানাচ্ছেন- অন্যান্য দিনে যেখানে এক ঘণ্টার নিচে যাওয়া যেত না, সেখানে আজ ১৫/২০ মিনিটেই পৌঁছে যাচ্ছেন। অনেকেই আফসোস করে লিখেছেন- ‘আহা, এমন ফাঁকা শহর যদি সবসময় থাকত।’

dhaka

শাহবাগের অদূরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে কর্তব্যরত দুই ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোশগল্প করতে দেখা যায়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, অন্যান্য দিন এ সময় তীব্র যানজটে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয়। আজ সরকারি ছুটি হওয়ায় এবং মানুষ সারারাত ইবাদত-বন্দেগিতে নির্ঘুম রাত কাটানোয় এখনও অনেকেই ঘুমাচ্ছে। এ কারণে শহর ফাঁকা বলে তারা মন্তব্য করেন।

এমইউ/এমবিআর/এমকেএইচ