খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে নজর এখন আমিষের দিকে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েছি। বাংলাদেশ এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশ। এখন আমরা পুষ্টির দিকে নজর দিয়েছি। এছাড়া মাছ, মাংস, ডিম, ফল শাক-সবজি কীভাবে বেশি উৎপাদন করা যায় সেদিকে নজর দিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৭টি ইনস্টিটিউট ও স্থাপনাসমূহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, প্রয়োজনীয় আমিষ পায় সেদিকে নজর দিয়েছি। এ জন্য আজ ৭টি ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করা হলো। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এক সময় বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। তখন দেশকে খাদ্য ঘাটতি রাখা হতো এই কারণে যে, বিদেশ থেকে যেন খাদ্য আমদানি করতে পারে এবং এই খাদ্য আমদানির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে। কারণ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো বুঝতো এবং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য কোনো প্রচেষ্টাই তারা গ্রহণ করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। দেশের মানুষ যেন সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা করছি। দেশের মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হলে কর্মক্ষম হবে। অধিক হারে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবো।

তিনি বলেন, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আমরা উৎপাদনের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি। আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয় ও হাওর-বাওর রয়েছে, যেখানে আমরা মৎস্য উৎপাদন করবো। দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিদেশে মাছ পাঠাবো। আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। সেই সমুদ্রসীমায় মাছ উৎপাদন করতে পারি। এছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণী উৎপাদন করে আমরা বিদেশে পাঠাতে পারি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে খাদ্যের চাহিদা কখনো কমবে না, বাড়তেই থাকবে। নিজের দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলে আমার নির্দেশনা আছে যেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যাবে। সেখানে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা শুধু উৎপাদন করলেই হবে না, এটা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে বিদেশে রফতানি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। গৃহিণীরা এখন শুধু সন্তান লালন-পালন আর ভাত রান্না করে না, তারা অর্থ উপার্জনও করে। সেজন্য আমরা যদি রান্নাবান্না উপযোগী করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে পারি তাহলে দেশেও একটা বড় বাজার তৈরি হবে।

তিনি বলেন, প্রায় ৯০ লাখের মতো প্রবাসী বাঙালি বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। সে দেশে যত ভালো খাবারই পাক না কেন, তারা ঠিকই বাংলাদেশের তরকারি খোঁজ করে। এভাবে আমরা যদি সরবরাহ করতে পারি সেখান থেকে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মিষ্টি পানি আছে, সাগর আছে। সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের প্রাণিসম্পদ বেশি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদেশে রফতানি করতে পারলে, বাংলাদেশ আর দরিদ্র থাকবে না। যদিও আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য দারিদ্রকে শূন্যের কোঠায় নামানো।

তিনি বলেন, আমরা যে কাজই করতে যাই না কেন, সেই কাজের ট্রেনিং থাকলে ভালো করা সম্ভব। এখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গবেষণা। ১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকারে আসি তখন দেখি গবেষণা খাতে একটি পয়সাও নেই। আমরা এসে প্রথমে ১২ কোটি টাকা এবং পরের অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা গবেষণা খাতে রাখি থোক বরাদ্দ হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী আজ যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেন তার মধ্যে রয়েছে- মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট গোপালগঞ্জ, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট কিশোরগঞ্জ, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট বেলকুচি সিরাজগঞ্জ, জাতীয় প্রাণী সম্পদ ও পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং আঞ্চলিক অনুসন্ধান ও গবেষণাগার গোপালগঞ্জ, হ্যাচারি আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার কোটালীপাড়া গোপালগঞ্জ, সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ সিরাজগঞ্জ ও মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ে ডকইয়ার্ড মৎস্য বন্দর চট্টগ্রাম।

এফএইচএস/এমএসএইচ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :