আদিবাসী ও দলিতদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ০৯ মে ২০১৯

আদিবাসী ও দলিতদের উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিতে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনেই আদিবাসী ও দলিত বিষয়ক আলাদা সেল গঠন এবং আদিবাসী ও দলিত সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী ও দলিত নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবাসমূহে অর্ন্তভুক্তি’ বিষয়ক এক অ্যাডভোকেসি সভায় এসব দাবি জানান আদিবাসী ও দলিত নেতারা।

সম্প্রতি টিআইবির উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশের আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠী : অধিকার ও সেবায় অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে এই অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, রাজশাহী শাখার সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, অভিযানের নির্বাহী পরিচালক বনানী বিশ্বাসসহ দেশের বিভিন্ন আদিবাসী, দলিত ও চা শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া।

অ্যাডভোকেসি সভায় টিআইবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য ইতোপূর্বে পেশ করা ১৩ দফা সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়ে আদিবাসী, দলিত ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা আরও কিছু দাবি তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো- সরকারি কর্ম কমিশনের প্রশিক্ষণ নীতিমালায় আদিবাসী ও দলিতদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, আদিবাসী ও দলিতদের জন্য পৃথক ব্যাংক ঋণ নীতিমালা গ্রহণ করা, রাষ্ট্রীয় গেজেট তালিকায় বাদ পড়া বিভিন্ন আদিবাসী ও দলিত গোষ্ঠীকে তফসিলভুক্ত করা, আদিবাসী ও দলিতদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ধর্ষণ ও সম্পদ দখলের মামলাসমূহ দ্রুত বিচার আইনের আওতায় আনা, সংসদে আদিবাসী ও দলিতদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করা, চাকরি ক্ষেত্রে বৈষম্য বন্ধ করা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে আদিবাসী ও দলিতদের অন্তর্ভুক্ত করা, সমতলের আদিবাসী ও দলিতদের জন্য অর্থসহায়তা আরও বৃদ্ধি করা, চা শ্রমিকদের লিখিত স্বীকৃতি প্রদানসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি।

সভায় জাতীয় আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘বিদ্যমান ব্যবস্থায় আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না। আদিবাসী ও দলিতদের বিষয়ে রাষ্ট্র স্পষ্টত সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এমনকি আদিবাসী ও দলিতদের সঙ্গে উপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে আচরণ করা হচ্ছে। তাই এ ধরনের গবেষণা আমাদের অ্যাডভোকেসি ও আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আদিবাসী ও দলিতদের বিষয়ে এক ধরনের সংবেদনশীলতা তৈরি করা। আন্দোলনের ধারা পরিবর্তন হওয়ায় এখন তথ্যনির্ভর আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই গবেষণার মাধ্যমে সেসব তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করেছি। আমাদের বিশ্বাস, রাষ্ট্র আদিবাসী ও দলিতদের সমস্ত অধিকার নিশ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।’

এইচএস/এমবিআর/এমকেএইচ