সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ১৯ মে ২০১৯

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আগের তুলনায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে এমন তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার মাসে ২৫০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ২০১৮ সালের গোটা বছরের চালচিত্রকে সামনে এনে নির্দ্বিধায় বলা যায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মাত্রা আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। কেননা ২০১৮ সালের এক বছরে যেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৮০৬টি সেখানে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ২৫০টি।

তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় যে চালচিত্র তা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে।

চলতি বছরের চার মাসের সাম্প্রদায়িক হামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, চার মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ২৩ জন, মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৬ জনের, হত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে দশটি, হত্যার হুমকি পেয়েছে ১৭ জন, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ১৮৮ জন।

এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৩১টি, চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে সাতটি, বাড়িঘর জমি-জমা থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন ১৬২ জন, জবর-দখলের ঘটনা ঘটেছে ৩৮টি, দেশ ত্যাগের হুমকি পেয়েছেন ১৭ জন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অংশ হিসেবে ধর্মীয় স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, চার মাসে আক্রান্ত মঠ-মন্দিরের সংখ্যা ২৯টি, ধর্মীয় স্থানের সম্পদ লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি, চুরির ঘটনা ৬টি, জবরদখল করা ধর্মীয় স্থানের সংখ্যা ৬টি, ধর্মীয় স্থান জবরদখলের অপপ্রয়াসের ঘটনা ১০টি এবং ভাঙচুরের ঘটনা ৪৩টি।

সাম্প্রদায়িক এসব সহিংস তার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণের ঘটনা। এ বিষয়ে রানা দাশগুপ্ত জানান, চলতি বছরের চার মাসে গণধর্ষণের ঘটনা ৫টি, ধর্ষণের ঘটনা ৭টি, ধর্ষণের অপপ্রায়াস একটি, যৌন হয়রানির ঘটনা ১০টি, ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনজন, নিখোঁজ তিনজন, অপহৃত হয়েছে ৬ জন, অপহরণের প্রয়াসের ঘটনা দুটি, অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের ঘটনা একটি, ধর্মান্তরিত হয়েছেন ১০৪ জন।

এছাড়া কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ হয়েছে ৫ জনের বিরুদ্ধে, প্রতারণা পূর্ণভাবে গোমাংস ভক্ষণ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রায়াসের ঘটনা ঘটেছে একটি, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি এবং অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে আরও ২০টি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের খোঁজে তার ফরিদপুরের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা, মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পত্রিক বাড়ি অগ্নিসংযোগে ধ্বংস, সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুনের ওপর হত্যার হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক মহল বিশেষ ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর পুনরায় হুমকি, হামলা অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে এবং সামাজিক গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্নকারীদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে আগামী ২৫ মে সকাল ১১টায় সকল সংখ্যালঘু সংগঠনকে সমন্বিত করে সারাদেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্মল রোজারিও, কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর, মিলন কান্তি দত্ত, জয়ন্তী রায়, স্বপ্ন রানী বিশ্বাস প্রমুখ।

এমএএস/এমবিআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :