৭৬২ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া পৌরকর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৬ এএম, ২১ মে ২০১৯

পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাসময়ে বেতন পান না। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পৌরসভায় বেতন, ভাতা ও অবসর ভাতা বাবদ বকেয়া ৭৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

সোমবার (২০ মে) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ব্র্যাক সেন্টারে ‘আরবান ফিউচার অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস ফর প্রো-পুর আরবান ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট পৌরসভার সংখ্যা ৩২৭টি। এতে নির্বাচিত মেয়রের সংখ্যা ৩২৭ জন, তিন হাজার ৩৩ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এক হাজার ১১ জন। পৌরসভাগুলোতে ৪৩ হাজার ১১০ জন স্থায়ী এবং ২২ হাজার ৪৪৪ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

তবে যথাসময়ে বেতন না পাওয়ার কারণে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সলীমুল হক, ব্র্যাকের নগর উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান হাসিনা মোশরফা, ম্যাব সভাপতি ও বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন, ম্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন প্রমুখ।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ট্যাক্স বণ্টনে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার। একটা পারসেন্টেজ ঠিক করুন। সরকারের যে রাজস্ব সংগ্রহ হচ্ছে, সেই রাজস্বের কত শতাংশ স্থানীয় সরকারকে দেবেন, এখন এটা ডেভেলপমেন্টের এক শতাংশের কম।’

গ্রামীণ মানুষ ট্যাক্স দিলেও তাদের জন্য বরাদ্দ থাকে না উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রিকশাওয়ালা ট্যাক্স দিচ্ছে না? ফোনে যখন রিকশাওয়ালা বলে, বিবি কেমন আছ? মোবাইলে কথা বলার সময় তারা ট্যাক্স দিচ্ছে না? গ্রাম থেকে আসা কাজের মেয়েটা যখন বলে, আফা আজকে আসতে পারব না। আজকে মেয়ের জামাই এসেছে বাড়িতে। ও যে ফোনটা করছে, সেখানে ট্যাক্স দিচ্ছে না? কিন্তু এই ট্যাক্স পুরোটাই চলে যাচ্ছে সেন্ট্রালে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে কী হয়? সেন্ট্রাল ফাইন্যান্স কমিশন ও লোকাল ফাইন্যান্স কমিশন তারা সেন্ট্রালে কত যাবে এবং লোকালে কত যাবে, একটা রিপোর্ট দেয়, তাদেরকে সেই অনুযায়ী টাকা দেয়া হয়। কেরালা রাজ্যের ৫০ শতাংশের বেশি টাকা যায় স্থানীয় সরকারের কাছে। আমাদেরও এভাবে ভর্তুকি দিতে হবে।’

‘এ জন্য অর্থায়ন ব্যবস্থার একটা শৃঙ্খলা দরকার। একাধিক সোর্স দিয়ে স্থানীয় সরকারকে টাকা দেয়ার দরকার নেই। একটা সিঙ্গেল সোর্স দিয়ে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে’, যোগ করেন তোফায়েল আহমেদ।

পিডি/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :