সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ : ৪০ কেজি করে চাল পাবে জেলে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ২২ মে ২০১৯

বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময় উপকূলীয় ১২ জেলার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৪টি জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেবে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এ তথ্য জানান। ৬৫ দিনে একজন জেলে পরিবার বিনামূল্যে মোট ৮৬ কেজি চাল পাবেন।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতি বছরের মতো এবারও ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত একটানা ৬৫ দিন পর্যন্ত সব যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মৎস্যযানের মাধ্যমে মাছ আহরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ সময় সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল হওয়ায় ডিমওয়ালা মাছের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিসহ মাছের মজুদ সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় মাছ আহরণ ব্যতীত জেলেদের আয়ের অন্য কোন উৎস্য না থাকায় মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহ অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ক্ষুধা নিবারণ ও দাদনদারদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য জেলেদের আইন অমান্য করতে বাধ্য হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আন্তরিকতায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবারই প্রথমবার মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় উপকূলীয় জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এনে খাদ্য সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’

‘উপকূলীয় ১২টি জেলার ৪২ উপজেলার জেলে পরিবারগুলোকে মাসে ৪০ কেজি করে ৩৬ হাজার টন চাল দেয়া হবে। ঈদের আগেই যাতে তারা চাল পায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হলে জেলে পরিবারের খাদ্য সংস্থান হওয়ায় তারা স্ব-উদ্যোগী হয়ে সামুদ্রিক ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ি ধরা থেকে বিরত থাকবে এবং ডিমওয়ালা মাছ ও চিংড়ির নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে সামুদ্রিক মাছ বৃদ্ধি পাবে।’

fisherish-state-min

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। এরমধ্যে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ৬ লাখ ৫৬ হাজার টন, যা দেশের মোট উৎপাদনের ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় ২০০০ সালের ২০ মে থেকে ১৫ এপ্রিল থেকে ৬০ দিন, মিয়ানমারে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত, বিগত ২০ বছর যাবৎ দক্ষিণ চীন সাগরে ১৭ মে থেকে ১ আগষ্ট পর্যন্ত ৭৮ দিন, থাইল্যান্ডে আন্দামান সাগরে ১ এপ্রিল থেকে ২০ জুন তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে বলে জানান আশরাফ আলী খান খসরু।

তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় লবস্টার প্রজনন মৌসুমে ফেব্রুয়ারি, সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে ধরা নিষিদ্ধ। ওমানে কিংস ফিসের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় ১৫ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ধরা নিষিদ্ধ থাকে।’

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রইছ-উল-আলম মণ্ডল, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/জেএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :