স্কুল বন্ধুদের হৃদয়ের টানে ছুটে আসে ওরা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ২৪ মে ২০১৯

‘কিরে দোস্ত, ইফতারের আর আধ ঘণ্টা সময় বাকি, তুই কই?’ ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে বেলা আড়াইটায় গাজীপুর থেকে আসা এক বন্ধুর দেরি দেখে মুঠোফোনে বন্ধুর খবর নিচ্ছিল আরেক বন্ধু। শাহবাগ আছে শুনে হাসি ফুটে বন্ধুটির মুখে।

রাজধানীর পুরনো ঢাকার চাঁনখারপুলের স্পাইস অ্যান্ড হার্বস্ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে ততক্ষণে হাজির একদল মধ্যবয়সী তরুণ (মধ্যবয়সী হলেও মনের বয়সে সবাই তরুণ দাবিদার)।

তারা পেশায় কেউ চিকিৎসক, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউবা প্রবাসী। যে কোনো উপলক্ষে পেলেই ওরা (পিকনিক, ইফতার ও ঈদপার্বনে গেট টুগেদার) সাময়িক সময়ের জন্য সংসার-সন্তান ও ব্যক্তিগত কাজ কর্ম ফেলে ছুটে আসে স্কুল বন্ধুদের হৃদয়ের টানে।

iftar

শুক্রবার এমনই এক দৃশ্যের অবতারণা হয় ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলের ব্যাচ ৮৭ (ওয়েস্ট ৮৭) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল-২০১৯ অনুষ্ঠানে। প্রায় চার দশক আগে যে সব শিশু কিশোররা লালবাগের ঐতিহ্যবাহী ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলের চৌহদ্দিতে হাতে হাত ধরে ঘুরে বেড়াতো, কখনও টিফিন টাইমে আবার কখনও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আজিমপুর কলোনি মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় মত্ত হতো। সময়ের পরিক্রমায় তারা এখন দেশ বিদেশে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে মধ্যবয়সে উপনীত হয়েছে।

iftar-2

কিন্তু হৃদয়ের টানে আজ স্কুলের ৬০-৭০ সহপাঠী ইফতারে অংশ নেয়। জীবন ও জীবিকার টানে সবাই কর্মব্যস্ত জীবন কাটালেও শুধুমাত্র ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা ছুটে আসেন। গাজীপুর ও সাভারসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। ইফতারের আগে এক দফা ও ইফতার শেষে নামাজ পড়ে আরেক দফা স্মৃতিচারণমুখর হয়ে উঠে আড্ডা।

iftar

যে রেস্টুরেন্টটিতে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেটির মালিকও তাদেরই সহপাঠী। সহপাঠীদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি মুখরোচক ইফতারের খাবার তুলে দিতে নিজেই ইফতার সামগ্রী বানাতে শুরু করেন। আরেক বন্ধু বাসা থেকে বন্ধুদের জন্য আম ও দুধের তৈরি বিশেষ শরবত নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার ঝুম বৃষ্টিতে আড্ডা জমে উঠে। কখনও যে এশার নামাজের ওয়াক্ত হয়ে যায় তা কেউ বুঝতেই পারেনি। কেউ একজন যখন তারাবি নামাজের কথা মনে করিয়ে দেয় তখনই সবার সম্বিত ফিরে।

বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করে আরেক চমক। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক জাকির ও রাশেদ বন্ধুদের হাতে কেজি দুয়েক ওজনের একটি মোরগ পোলাওয়ের প্যাকেট তুলে দিয়ে বলেন, শুধু বন্ধুরা উপস্থিত হলেও তাদের স্ত্রী ও সন্তানরা অনুষ্ঠানে আসতে পারেনি। তারাও যেন আনন্দের অংশ হতে পারে এজন্য এ চমক।

iftar

রাশেদ জানান, কয়েকজন বন্ধু মিলে তারা সব বন্ধুদের ইফতারের দাওয়াত করে খাওয়াচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা স্কুল বন্ধুদের একত্র করার প্রচেষ্টা চালান। বিদায় বেলায় একে একে সবাই আবারও শিগগিরই মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এমইউ/জেএইচ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :