চার প্রতিষ্ঠানে অভিযান, পাঁচ ডিসিকে দুদকের চিঠি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ২৮ মে ২০১৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) আগত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বায়েজিদুর রহমান খানের নেতৃত্বে মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে রোগীদের ও স্বজনদের নিকট হতে বাড়তি পরিমাণ টাকা নেয়া হয়- এমন তথ্য পায় দুদক টিম। পরবর্তীতে কোনোরূপ বাড়তি অর্থ গ্রহণ করা হবে না, মর্মে মুচলেকা প্রদান করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সিং ইনচার্জ। রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে দুদকে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন মর্মে অবহিত করেন।

এদিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাকারিয়ার নেতৃত্বে অপর এক অভিযান পরিচালিত হয়। টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের মাঝখানে বেশকিছু খুঁটির অস্তিত্ব পায়। দুদক টিম তাৎক্ষণিকভাবে তা অপসারণের পরামর্শ প্রদান করে।

দুদক টিমের পর্যবেক্ষণকে আমলে নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লীবিদ্যুৎ খুঁটি অপসারণের কার্যক্রম শুরু করে।

এছাড়া খাগড়াছড়ি বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার কেন্দ্রে অভিযান চালায় দুদক টিম। এখানে হয়রানির শিকার গ্রাহকরা দুদকের কাছে লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে দালাল চক্রের সদস্য সোহেল চাকমাকে চিহ্নিত করে দুদক টিম। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট তাকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ পাঠায় দুদক টিম।

এদিকে পটুয়াখালী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে সেবা প্রদানে ঘুষ-লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় হতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদক টিম সরেজমিন অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। টিম জানতে পারে, বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বিভিন্ন স্তরে অনৈতিক অর্থ লেনদেন, হয়রানি ও অনিয়ম হয়। এক্ষেত্রে দালালরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগসাজশে গ্রাহকদের নিকট হতে অর্থ আদায় করে। দুদক টিম এ জাতীয় দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করে।

এছাড়া পাসপোর্ট অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও জেলা কারাগারসমূহের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দেয়া হয়।

এমইউ/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :