‘সুযোগ-সুবিধা হঠাৎ সরে গেলে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ৩০ মে ২০১৯

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বেরিয়ে শিগগিরিই মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। একই সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশের ফলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ধীরে ধীরে সরানোর অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ যেহেতু মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছিলাম সেগুলো সরে যাবে। ফলে আমাদের ওপর একটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। হঠাৎ করে সরে গেলে আমাদের ক্ষতি হতে পারে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কমিশনের (ইউএনএসকাপ) সদর দফতরে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ২৭ মে শুরু হওয়া ইউএনএসকাপ’র ৭৫তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ছিল শেষ কর্মসূচি। শেষ দিনে একটি সাইড ইভেন্টের আয়োজন করে বাংলাদেশ। এতে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশকে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এতো দিনের সুযোগ-সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে সরানোর অনুরোধ জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

ইউএনএসকাপ’র এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি আর্মিদা সালসিয়া অ্যালিসজাবানা, ভারত, কম্বডিয়া, লাউস, নেপালসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যে সাফল্য অর্জন করেছে এলডিসি থেকে উত্তরণে, এ নিয়ে তারা খুবই প্রশংসামূলক মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করেন, আমরা সঠিক পথেই আছি। আমাদের শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি হবে।’

বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষ, তারা খেত-খামারে, পোশাকে, শিল্পে পরিশ্রম করছেন। এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। মূলত এসব কারণে বাংলাদেশের পক্ষে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের মানুষের পাশাপাশি আমাদের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তা আছে। আমাদের দেশ যেহেতু মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে, কিছু কিছু সুবিধা আমরা যা পাচ্ছিলাম, এগুলো সরে যাবে। ফলে আমাদের ওপর একটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি রাষ্ট্রগুলোকে বলেছি, দেখেন, যে সুযোগ-সুবিধা আপনারা আমাদের দিয়েছেন, আপনাদেরও লাভ হয়েছে, আমাদেরও লাভ হয়েছে। আপনারা অনেক বেশি লাভ করেছেন। আপনাদের উন্নত জীবনযাত্রার মান চালিয়ে যাচ্ছেন- এটা আমাদের পরিশ্রমের ফলে। ফলে দু‘জনের স্বার্থেই আমরা মধ্যম ও উচ্চ আয়ের দেশে যেতে পারি, আপনারা নিজেদের স্বার্থেই আমাদের সহায়তা করবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি, সেগুলো হঠাৎ করে সরে গেলে আমাদের ক্ষতি হতে পারে। পর্যায়ক্রমে বা ধীরে ধীরে এটা সরানোর জন্য আমি অনুরোধ করেছি।’

বাংলাদেশের মূল বার্তা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল বার্তা হচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা আত্মপরিচয় তুলে ধরব। নিজেদের কাজটা নিজেরাই করব, স্বাবলম্বী হব। পরিশ্রম করে আমরা দুনিয়ায় আমাদের স্থান অর্জন করতে চাই। ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে আমরা রূপান্তরিত হবই, আশা করি।’

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ইআরডি’র যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল কাউনাইন, মুখ্য সমন্বয়ক অতিরিক্ত সচিব ড. মোকাম্মেল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নাসরিন আফরোজ, ইআরডি’র যুগ্মসচিব আব্দুল বাকী, ব্যাংককে নিযুক্ত ইকোনমিক কাউন্সিলর কবির আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, ইআরডি’র যুগ্ম প্রধান ফরিদ আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পিডি/আরএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :