র‌্যাবের ইয়াবা মামলা থেকে খালাস পেলেন পুলিশ কনস্টেবল কবির

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ৩০ মে ২০১৯

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের সময় ছয় পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার মিরপুর মডেল থানার কনস্টেবল কবির হোসেনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুল খালাস দেন। আদালত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন : এবার ধান কাটতে মাঠে পুলিশ কমিশনার

চলতি বছর ৭ জানুয়ারি রাতে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সময় র‌্যাব সংবাদ পায় যে, মিরপুর মডেল থানাধীন বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মেইন গেটের সামনে কিছুসংখ্যক লোক মাদক বিক্রি করছে। র‌্যাব সেখানে অভিযান চালিয়ে কবির হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে। এরপর তার জিন্স প্যান্ট থেকে ছয়টি ইয়াবা জব্দ করে।

আরও পড়ুন : সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লো পুলিশের কাণ্ড

ঘটনার পরদিন (৮ জানুয়ারি) তার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন র‌্যাব-৪ এর পুলিশ পরিদর্শক কবির উদ্দিন সরকার।

পুলিশ হেফাজতে থাকার পর আসামি কবির হোসেন অভিযোগ করেন, র‌্যাব হেফাজতে থাকাকালীন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ কারণে অসুস্থ হওয়ায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বজলার রহমান কনেস্টবল কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আরও পড়ুন : পুলিশ কনস্টেবলের সততা

অভিযোগপত্রে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সাক্ষ্যপ্রমাণে জব্দকৃত আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনায় আসামি কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) ও ১০ (ক) ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রতীয়মান হয়েছে। মামলায় সাক্ষী করা হয় ১৪ জনকে।

এদিকে মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর কবির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, 'আমাকে হয়রানি করার জন্য র‌্যাব মিথ্যা মামলা করেছিল। আজ আদালত আমাকে সসম্মানে খালাস দিয়েছেন। আমি এতে অনেক খুশি।'

অপরদিকে খালাসের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জাগো নিউজকে বলেন, 'সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ কনস্টেবল কবিরকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সাক্ষীরা আদালতে তার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য দেয়নি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাকে খালাস দিয়েছেন। আমরা খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।'

জেএ/এসএইচএস/পিআর