পিপাসা মেটাতে রোজাদাররা খাচ্ছেন ‘মাছের বরফ’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ৩১ মে ২০১৯

রাজধানীর নিউমার্কেট পোস্ট অফিসের অদূরে শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৪টায় কয়েকটি পিকআপ ভ্যান এসে থামতেই ডজনখানেক দিনমজুর গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। গাড়ির চালকের সঙ্গে দু-এক কথা বলেই লাফ দিয়ে পিকআপ ভ্যানের ওপরে উঠে রঙিন পলিথিন দিয়ে আবৃত সাদা বরফের প্যাকেট খুলে পাঠাতনে নামিয়ে রাখেন। দিনমজুরদের কয়েকজন লোহার শিক দিয়ে বরফ ভেঙে আকার ছোট করেন। ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রেতারা চাহিদা অনুযায়ী বরফের টুকরো কিনে প্যাডেলচালিত ভ্যানগাড়ি ও রিকশায় তুলে গন্তব্যে ছুটে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রতিদিন একই সময়ে নিউমার্কেট মুরগী মার্কেটের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণায় বরফ বিক্রির হাট বসে। আজিমপুর, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, শাহবাগ, কলাবাগান ও জিগাতলা থেকে ক্ষুদে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পাইকারি দামে বরফ কিনে (এক পাঠা ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা) নিয়ে পাড়া-মহল্লায় এসব বরফের ছোট ছোট টুকরো ১০-৪০ টাকায় বিক্রি করেন।

Fish-Ice-1

জানা গেল কামরাঙ্গীরচর ও সাভার থেকে পিকআপ ভ্যানে করে এসব বরফ বিক্রির জন্য আনা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাছ ব্যবসায়ী জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূলত এসব বরফ মাছ যেন না পচে সেজন্য তৈরি করা হয়। কাকডাকা ভোরে বিক্রি হয় এসব বরফ।’

Fish-Ice-1

রোজা উপলক্ষে মাছে ব্যবহৃত বরফই রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। তবে এগুলো কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

একজন বরফ ব্যবসায়ী সাফাই গেয়ে এ প্রতিবেদককে বললেন, ‘এগুলো ওয়াসার সাপ্লাই ও গভীর নলকূপ থেকে তোলা পানিতে তৈরি বরফ। ফলে মাছেই দেয়া হোক কিংবা খাবারপানিতে ব্যবহৃত হোক তা স্বাস্থ্যসম্মত।’

Fish-Ice-1

গাউছিয়ার সামনে অ্যারোপ্লেনওয়ালা মসজিদের সামনে বরফ বিক্রি করেন সুমন মিয়া। রোজার মাস ছাড়া প্রতিদিন সকালে মাছের আড়তে শ্রমিকের কাজ করেন। এসব বরফ পরীক্ষা করে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এমইউ/এসআর/পিআর