বৃষ্টির কারণে বিনোদন কেন্দ্রে মেলেনি মানুষের দেখা

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৭ পিএম, ০৫ জুন ২০১৯
বৃষ্টির কারণে আজ এমনই ফাঁকা ছিল রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

ষড়ঋতুর এই দেশে জ্যৈষ্ঠের খরতাপে কখনও ঝাঁঝালো রোদ, কখনও মেঘের লুকোচুরি। মেঘ-রোদের তীব্রতায় খুব একটা ছেদ পড়েনি ঈদের দিনে রাজধানীবাসীর চিত্তবিনোদনে। কচি-কাঁচাদের হৈ-হুল্লোড়ে মুখর থাকে চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, অন্যান্য পার্কসহ সব বিনোদন কেন্দ্র। পথে পথে থাকে তারুণ্যের উচ্ছাস।

কিন্তু এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গোটা রাজধানীই যখন ফাঁকা তখন ভিন্ন চিত্র বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। আজ রাজধানীতে বিনোদনের যেসব স্পট রয়েছে সেগুলোতে উপচেপড়া ভিড় থাকার কথা থাকলেও সেখানে মিলছে না মানুষের দেখা।

সাধারণত যে কোনো ঈদের দিন নামাজের পর থেকেই দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটতে শুরু করে যেসব বিনোদন কেন্দ্রে আজ সেখানে কোনো মানুষের দেখা মেলাই ভার।

ফার্মগেটের আবদুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি, কাজ কর্ম নাই। বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুরতে যাব, তাও পারা গেল না। বৃষ্টি যদি কমে তাহলে বিকেলে বের হতে চাই।

ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়ি না যেয়ে ঢাকায় রয়েছেন তারা বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করার চেয়ে ঘরে বসে বসে বৃষ্টি দেখছেন। তবে, এ অবস্থায়ও অনেকে পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়েসহ ছাতা হাতে কাকভেজা হয়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

দুপুরে মুহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্তির সুরে লুকমান মিয়া বলছিলেন, ঈদের দিন নামাজের আগে থেকেই বৃষ্টি। ভিজে ভিজে নামাজ পড়া শেষে মেয়েটাকে নিয়ে সামান্য ঘুরতেও পারব বলে মনে হচ্ছে না।

হাতিরঝিল : রাজধানীর সাধারণ আর মধ্যবিত্তের বিনোদন কেন্দ্র বলতে এখন হাতিরঝিলই প্রধান হয়ে উঠেছে। সব মানুষের স্রোত তাই সেখানেই। ঈদের দিন সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমান হাজারো মানুষ। কিন্তু সেখানে বিনোদনপ্রেমীদের দেখা মিলেনি আজ দুপুরের দিকে।

চিড়িয়াখানা : ঈদের দিন সকাল থেকেই ভিড় জমতে থাকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানায়। তবে, আজ বৃষ্টির কারণে পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে আসতে দেখা যায়নি বিনোদনপ্রেমী মানুষকে।

শিশুপার্ক : ব্যয় কম, তাই সাধারণত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিনোদন কেন্দ্র ছিল শাহবাগে অবস্থিত শিশুপার্ক। কিন্তু আরও চমকপ্রদ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রায় ৫ মাস ধরে এই পার্ক বন্ধ করে সংস্কারের কাজ চলছে।

জাতীয় জাদুঘর : প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের দিন রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ পথে দর্শনার্থীর ভিড় থাকে। রাজধানীতে যাদের স্থায়ী বসবাস কিংবা কোনো কারণে গ্রামে যেতে পারেননি তাদের জন্য জাতীয় জাদুঘর ছিল অন্যতম সময় কাটোনোর জায়গা। সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের বিনা টিকেটে জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করার সুযোগ রেখেছে সরকার।

তবে, আজ ঈদের দিন সকাল থেকেই সেখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা নেই বললেই চলে।

পূর্বাচলের বালু নদী : রাজধানীর পূর্বাচলের বালু নদী এখন মহানগরীর তরুণ-তরুণীদের বিনোদনের অন্যতম স্থান। অনেকেই নদীর তীরে বসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে চুটিয়ে আড্ডা দেন। ঈদের দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌকা ভ্রমণে বের হন অনেকেই। তবে, আজ ঈদের সকাল গড়িয়ে গড়িয়ে দুপুর হলেও মানুষের দেখা তেমন একটা মিলেনি।

শুধু জনপ্রিয় এসব বিনোদন কেন্দ্রই নয়, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থান আর বিনোদন কেন্দ্রগুলো জনসাধারণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র নতুন করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা হয়েছে। ছোট-বড় সবাই ছুটির আনন্দ চুটিয়ে উপভোগ করবেন সেই জন্য।

কিন্তু আজ আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লার মত ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যসব বিনোদন কেন্দ্রগুলোর কোথাও মানুষের ভিড় ছিল না।

তবে, ঈদের দিনে শেষ বিকেলের বৃষ্টির শঙ্কা কিছুটা কমলে বিনোদন কেন্দ্রে বা স্পটগুলোতে ভিড় বাড়তে পারে। মুখরিত হয়ে ওঠতে পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সংসদ ভবন, রমনা পার্ক, শিশুমেলা কিংবা রাজধানীর অদূরে ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্কসহ সব বিনোদন কেন্দ্র।

এফএইচ/এমএমজেড/এমএস