‘পরিবেশ পুলিশ’ চায় অধিদফতর

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ১৫ জুন ২০১৯

অভিযান পরিচালনা অধিকতর জোরদার করতে সরকারের কাছে ‘পরিবেশ পুলিশ’ বরাদ্দ চায় পরিবেশ অধিদফতর। অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযান পরিচালনার জন্য দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও অনেক সময় পুলিশ রিক্যুইজিশন চেয়ে না পাওয়ায় অভিযানে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও অভিযান পরিচালনা করতে পারে না পরিবেশ অধিদফতর।

তারা বলেন, অনেক সময় নিরূপায় হয়ে আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য না থাকায় অভিযানকালে কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এসব কারণে সীমিত আকারে হলেও ‘পৃথক পুলিশ’ চায় পরিবেশ অধিদফতর।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে পরিবেশ অধিদফতর আয়োজিত ‘এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা বিষয়ক কর্মশালায়’ এ দাবি জানান তারা।

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদসহ অধিদফতরের অন্যান্য পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মুখে ঘুরেফিরে সরকারের কাছে পৃথক ‘পরিবেশ পুলিশ’ দাবির বিষয়টি উঠে আসে। পৃথক বরাদ্দ না পেলেও অন্তত এক প্লান্টুন পুলিশ সবসময়ের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্তি এখন সময়ের দাবি বলে জানান তারা।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) রুবিনা ফেরদৌসি বলেন, মহাপরিচালকের অর্পিত ক্ষমতার আলোকে ২০১০ সালের ১৩ জুলাই পরিবেশ অধিদফতর ক্ষতিপূরণ ধার্য ও আদায় শুরু করে। সেই থেকে অদ্যাবধি পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অপরাধে পাঁচ হাজার ৪৫ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৮৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। আদায় হয় ১৭৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে ৭৭৫ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে ১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জুলাই ২০১৮ থেকে এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪৯৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে সাত কোটি ৬৬ লাখ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ১৬৯ কোটি টন পলিথিন জব্দ ও পাহাড় কাটার অপরাধে ৩২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা শুরু করে একই অপরাধে ২৮টি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এমইউ/বিএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :