বায়ু দূষণে প্রকৃতপক্ষে দায়ী কি ইটভাটা?

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯

বায়ু দূষণজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি ঘণ্টায় ১৪ জনের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। টেস্ট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯ অনুসারে ২০১৭ সালে বায়ু দূষণের কারণে দেশে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বায়ু দূষণে আক্রান্ত বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। বাংলাদেশে বায়ু দূষণের জন্য প্রধানত ইটভাটাকে দায়ী করা হয়। পরিবেশ অধিদফতরের গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা হিসেবে বায়ু দূষণে বিভিন্ন উৎসের মধ্যে ইটভাটা ৫৮ ভাগ, যানবাহন ১০ দশমিক ৪ ভাগ, রোড ডাস্ট ৭ দশমিক ৭ ভাগ, সয়েল ডাস্ট ৭ দশমিক ৫৭ ভাগ, বায়োমাস পোড়ানো ৭ দশমিক ৩৭ ভাগ, ফুজিটিভ ৭ দশমিক ৬৩ ভাগ ও সমুদ্রের লবণ/জিঙ্ক উৎস ১ দশমিক ৩৩ ভাগ দায়ী।

বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটাকে প্রধানত দায়ী করা হলেও বর্তমানে এ তথ্য সঠিক কিনা-তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। কারণ পরিবেশ অধিদফতরের এ গবেষণাটি ৮ বছর আগে ২০১২ সালের। সুতরাং হালনাগাদ কোনো গবেষণা কিংবা জরিপ প্রতিবেদন না থাকায় বায়ু দূষণের জন্য সিংহভাগই ইটভাটা দায়ী-এ তথ্য কতটুকু সঠিক তা নিয়ে খোদ পরিবেশ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারাই প্রশ্ন তুলেছেন।

রোববার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও দৈনিক সমকালের যৌথ আয়োজনে ‘আসুন বায়ুদূষণ রোধ করি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাদের মুখে ঘুরে ফিরে এ প্রশ্ন আসে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক অতিরিক্ত সচিবসহ বক্তারা পুরোনো তথ্য-উপাত্তের ওপর নির্ভর করে ইটভাটাকে সিংহভাগ দায়ী করার ফাঁকফোকড় গলিয়ে অন্য বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণের বিষয়টি যেন ঢাকা না পড়ে সে জন্য নতুন করে গবেষণা জরিপ পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

pollution-1

পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চালনায় বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ, পরিবেশবিদ আইনুন নিশাত, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অতিরিক্ত সচিব বেলাল হোসেন, এম মনসুর উল আলম, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের মুকিত মজুমদার বাবু, বাংলাদেশ ব্রিক মার্চেন্ট ওনার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আলহাজ আবু বক্কর প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, ‘শুধু বায়ু দুষণই নয়, অন্যান্য দূষণের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে জরিপ করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।’

পরিবেশবিদ আইনুন নিশাত বলেন, ‘ইটভাটার মালিকরা বায়ু দূষণ সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে এটা খুবই ইতিবাচক লক্ষণ।’ বায়ু দূষণরোধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বায়ু দূষণের কারণ চিহ্নিত হয়েছে এখন সরকারের কাছ থেকে সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রূপরেখা প্রদান করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আরেক পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

এমইউ/এনডিএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :