আমার রিকশাডা ছাইড়্যা দেন স্যার

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৭ জুন ২০১৯

‘পারমিশন তো আপনারাই দিছেন, এই যে থানার বাঘ মার্কা সিল। আমি একজন প্রতিবন্ধী। আমার রিকশাডা ছাইড়্যা দেন, স্যার।’

সোমবার আনুমানিক বেলা ১টায় বকশিবাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কর্মকর্তার কাছে জব্দ করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ফেরত চাইছিল এক তরুণ রিকশাচালক। তার দিকে না তাকিয়ে ট্রাফিক সার্জেন্ট উচ্চকণ্ঠে কনস্টেবলকে ডেকে মোট কয়টি জব্দ করা হয়েছে তা জানতে চান। রিকশাগুলো ড্যাম্পিং স্টেশনে পাঠাতে রেকার ভাড়া করে আনতে কত টাকা লাগবে তাও জানতে চাইলেন।

sir

বকশিবাজার মোড়ে তখন ছোটখাটো জটলা। আজিমপুরমুখী রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে বেশ কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা মোটা নাইলনের রশি দিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি বেঁধে রাখা হচ্ছে। কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, ব্যাটারিচালিত এসব রিকশা চালানো নিষিদ্ধ।

এ সময় কয়েকজন রিকশাচালক এ প্রতিবেদককে ডেকে নিয়ে রিকশার সিটের নিচে বিশেষ চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, রিকশাগুলো চালানোর জন্য থানা থেকেই তারা পারমিশন নিয়েছেন। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মাসোহারা দিয়ে তবেই তারা পাড়া মহল্লার রাস্তায় চালান। আজও তারা প্রধান সড়কে আসেননি। কিন্তু কী কারণে আজ তাদের ভেতরের রাস্তা থেকে আটক করা হয়েছে তা বলতে পারছেন না।

sir

অনেকেই জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ছেয়ে গেছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব রিকশা দ্রুতগতিতে পথচলতে গিয়ে কখনও কখনও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। অনেক সময় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে রিকশাচালক কোথাও পানি বা অন্য কোনো কাজে গেলে ব্রেক ছুটে গেলে পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়াতে থাকে। অনেক সময় রিকশার ধাক্কায় পথচারীরা আহত ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশা পুলিশ ও মাস্তানদের ম্যানেজ করেই চলে। টাকা-পয়সা নিয়ে বনিবনা না হলে ধরপাড়ক করা হয়। তারা অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা দরকার বলে মনে করেন।

এমইউ/এনডিএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :