পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে যা বলল বিদ্যুৎ বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১২ পিএম, ২০ জুন ২০১৯
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি ও চীনা শ্রমিকদের সংঘর্ষ এবং সেখানে এক চীনা ও বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত ১৭ ও ১৮ জুন যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। এটি একটি দুর্ঘটনা। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিহত শ্রমিক সাবিন্দ্র দাস কাজের সময় নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম পরিহিত ছিলেন। কিন্তু শেষবার তিনি সেফটি বেল্টের হুক যথাস্থানে ভুলবশত স্থাপন না করায় উপর থেকে পড়ে গিয়ে নিহত হন। সেখান থেকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাতে শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘনটা ঘটে, এতে ১০ জন বাংলাদেশি এবং ৬ জন চীনা শ্রমিক আহত হন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীনা শ্রমিক ঝাং ইয়াং ফাং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় পড়ে মাথায় আঘাত পান। রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় চীন ও বাংলাদেশি আহত শ্রমিক কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, তদুপরি তাদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় জানিয়ে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম এবং চায়না দূতাবাসের দু’জন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ ও চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া নির্মাণাধীন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শ্রমিকের কর্মপরিবেশ আরও উন্নত করতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আরএমএম/আরএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]