জুলাই থেকে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯

এপ্রিলের মধ্যেই পাহাড়ের মালিকরা নিজ উদ্যোগে অবৈধ বসবাসকারীদের অপসারণের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব পাহাড়ের সরকারি সংস্থা কিংবা ব্যক্তি মালিক কেউ-ই সে কথা রাখেনি। তাই চলতি বর্ষায় চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ বসতি উচ্ছেদ কার্যক্রম নিজ হাতেই তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

রমজান ও ঈদের কারণে প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর এ সংক্রান্ত উপ-কমিটি আগামী ১ জুলাই থেকে আবারো উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মো. আজাদুর রহমান মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিকে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব সংস্থার সমন্বয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে। উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে বিদ্যুৎ, ওয়াসা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকে সামনে রেখে গত ১৬ এপ্রিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৯তম সভায় এক মাসের মধ্যে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে সময় ১৫ মের মধ্যে পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। পাহাড় মালিকরা নিজ উদ্যোগে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানান। তবে এখনো তারা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেনি। সরকারি কোনো সংস্থাও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি। অবশেষে গতকাল (২৪ জুন) পরিবেশ অধিদফতরের হালদা কনফারেন্সে উচ্ছেদ সংক্রান্ত কর্মপন্থা নির্ধারণী সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আবারো উচ্ছেদ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।

নগরীতে ১৭ পাহাড়ে ৮৩৫ পরিবারকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী হিসেবে চিহিৃত করে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে রয়েছে ৫৩১টি পরিবার আর সরকারি মালিকানাধীন ৭ পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারীর পরিবারের সংখ্যা ৩০৪। সরকারি পাহাড়গুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত অধিদফতর ও ওয়াসার আওতাধীন বলে জানা গেছে।

এসআর/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :