২০২২ সালের মধ্যে কেমিক্যাল কারখানা সরবে সিরাজদিখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯

২০২২ সালের জুনের মধ্যে কেমিক্যাল কারখানা ধলেশ্বরীর তীরে সিরাজদিখানে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

বুধবার (২৬ জুন) সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিমতলীর ঘটনায় ১৭টি সুপারিশ পেয়েছিলাম, চুড়িহাট্টার ঘটনার পর প্রথম আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিংয়ে ১৮টি সুপারিশ পেয়েছি। আজকে সভায় যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির) আসছে সেখানে স্বল্প মেয়াদি পাঁচটি সুপারিশ ও দীর্ঘ মেয়াদি ২৬টি সুপারিশ এসেছে। সেই সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’

এনামুর রহমান বলেন, ‘সকলের দাবি ছিল কেমিক্যাল কারখানাগুলো রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে বাইরে স্থানান্তর করা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছি, সিরাজদিখানে ৩১০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ২ হাজার ১৫৪টি প্লট দেয়া হবে, যেটা ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব কেমিক্যাল কারখানার মালিকরা তাদের শিল্প কারখানা নিয়ে সেখানে স্থানান্তর হবে। পুরান ঢাকায় এতদিনে সরকারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল নিমতলীর ঘটনার পর থেকে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।’

এনামুর রহমান বলেন, ‘(কেমিক্যাল কারখানা) জুন ২০২২ সালের মধ্যে স্থানান্তর করা হবে। যেটা হবে ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে। সেখানে দুটি জেটি থাকবে, সিইটিপি থাকবে। চারদিকে সবুজ বেষ্টনী থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া কদমতলীতে বিসিকের একটি জায়গা ছিল ৬ দশমিক ১৭ একর। সেখানে ৫৪টি গুদাম তৈরি করা হবে কেমিক্যাল রাখার জন্য। টঙ্গীর কাঁঠালদিয়া মৌজায় বিসিকের ৬ একর জমি ছিল, সেখানে শিল্প মন্ত্রণালয় আরও ৫৩টি গোডাউন করে দেবে। এ গোডাউনগুলো কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভাড়া নেয়া নিয়ে এমওইউ অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে এবং তাদের বরাদ্দ দেয়া হবে। এতে ঢাকাবাসী আরেকটি বিপদ থেকে উদ্ধার পাবে, একটি ঝুঁকি থেকে তারা রেহাই পাবে।’

‘পুরান ঢাকায় আবাসিক এলাকায় যে কেমিক্যাল কারখানার তালিকা প্রণয়ন হয়েছে, তবে আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত আসেনি। আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি তারা যাতে এক মাসের মধ্যে তালিকাটা সরবরাহ করেন।’

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিস্ফোরক অধিদফতর জানিয়েছে, অনেক কেমিক্যাল আছে যা তারা ছাড়াও অন্যরাও লাইসেন্স দেয়। আমরা তাদের নতুন করে কেমিক্যালের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া একটি জয়েন্ট কমিটি করে দেয়া হয়েছে, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তারা সকলে মিলে এ কাজগুলো তদারকি করবে।’

জযেন্ট কমিটিকে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কমিটি চুড়িহাট্টায় ঘটনার পর নেয়া সিদ্ধান্ত কেমিক্যাল গোডাউন সরানো, লাইসেন্স তাদারকি করার কাজগুলো দেখভাল করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যতবারই অগ্নিকাণ্ড ঘটে পানি সরবরাহে বাধার সম্মুখীন হই, আমরা দেখেছি পৃথিবীর সব দেশে রাস্তার পাশে অগ্নিকাণ্ডের সময় পানি সরবরাহের জন্য ওয়াটার হাইড্রেন্ট থাকে। সুপারিশে প্রত্যেকবারই ওয়াটার হাইড্রেন্টের কথা উঠে এসেছে। কিন্তু আজকে পর্যন্ত জানতে পারলাম স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাইড্রেন্ট করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

শুধু ঢাকা নয় যতগুলো বড় বড় শহর আছে সব জায়গায় ফায়ার সার্ভিসকে পানি সরবরাহ নিশ্চিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণে স্থানীয় সরকার বিভাগকে বলা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এনামুর রহমান বলেন, ‘জনগণকে সচেতন করার জন্য অনেকগুলো সুপারিশ এসেছে- আবাসিক এলাকায় আর নতুন করে কেমিক্যাল কারখানা হবে না। স্কুল, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে কোনো কেমিক্যাল কারখানা করতে দেয়া হবে না।’

সচেতনতা তৈরির জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

আরএমএম/আরএস/এএইচ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :