আট দিনে পাঁচবার ডুবল বন্দরনগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিতে শনিবার ভোর থেকেই তলিয়ে গেছে নগরের নিচু এলাকা গুলো, পানি উঠেছে সড়কেও

শুক্রবার (৫ জুলাই) বৃষ্টি শুরুর পর থেকে গত আট দিনে পঞ্চম বারের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়।

শনিবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মস্থলমুখী মানুষকে।

পানি ঢুকছে নগরীর নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। জলাবদ্ধতার কারণে পুরো নগরীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, পাঁচদিনে চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৬১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গত সোমবার (৮ জুলাই) নগরীতে সর্বোচ্চ ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া রোববার ৬৬ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ৬৯ মিলিমিটার, বুধবার ১৪৬ মিলিমিটার ও বৃহস্পতিবার ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।

chittagong

শুক্রবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হলেও সোমবার থেকে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। এদিন চট্টগ্রাম নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নগরীর প্রধান প্রধান বেশ কয়েকটি সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে গলা সমান পানি জমে।

হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএ, বেপারিপাড়া, শান্তিবাগ, মুহুরিপাড়া, রঙ্গিপাড়া, ছোটপুল, বড়পুল এলাকায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে গেলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের।

মঙ্গলবারও টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নগরী ছাড়াও জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবান ও বান্দরবানের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ।

বুধবার সকালে হালকা বৃষ্টি হলেও দুপুরের পর শুরু হয় ভারী বর্ষণ। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিকেলে অফিস ও কর্মস্থলফেরত মানুষ যানবাহন সংকটে পড়েন।

বৃহস্পতিবার বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পানি থেকে মুক্তি মেলেনি চট্টগ্রামবাসীর। গতকাল রাতভর বৃষ্টিতে শনিবার ভোর থেকেই তলিয়ে গেছে নগরের নিচু এলাকাগুলো, পানি উঠেছে সড়কেও।

chittagong

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে ও সাগর উত্তাল থাকায় গত ছয়দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যত বন্ধ আছে।

বন্দরে প্রবেশ করা ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-লরি যানজটের কারণে স্বাভাবিকভাবে বেরুতে পারছে না, প্রবেশেও ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাসে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কনটেইনার জটের পাশাপাশি জেটিতে জাহাজ জটও তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

এদিকে, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরশি নগর এলাকা পাহাড়ধসের ঘটনায় দুইজনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টি আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। সেই সঙ্গে পাহাড় ধসের সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের আটটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামে ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন ও কন্ট্রোল রুম চালু করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

আবু আজাদ/জেডএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :