বিবিআইএন চুক্তি কার্যকরের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

ভুটানের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে দীর্ঘ চার বছর পর বিবিআইএন চুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালকে (বিবিআইএন) নিয়ে একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ার পরিকাঠামো হচ্ছে বিবিআইএন। এ কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো- চারটি দেশের মধ্যে পানির উৎসসমূহের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও সড়কে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলে আঞ্চলিক বাণিজ্য এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্যে এবার ইন্দো-বাংলাদেশ স্টেক হোল্ডার সম্মেলনে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে ভারতের আসামের গোহাটিতে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল যোগ দেবেন। আগামী ১৯-২০ জুলাই এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেভেন সিস্টারস খ্যাত ভারতের সাতটি রাজ্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করবেন।

সূত্র জানায়, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিবিআইএন ১৯৯৭ সালের ১৪ মে গড়ে ওঠে। তবে ৮ জুন ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্টের খসড়া তৈরি করে এবং ওই বছরের ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এ খসড়ার অনুমদন দেওয়া হয়। এ চুক্তি দ্বারা চারটি দেশের যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করতে পারবে এবং সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু চুক্তিটি করার ব্যাপারে হঠাৎই বেঁকে বসে ভুটান। পরবর্তী পার্লামেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় বিবিআইএনের বিষয়টি।

সে সময় দেশটির সরকারবিরোধী আইন প্রণেতাদের আশঙ্কা ছিল, বিবিআইএন চুক্তি তাদের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া অন্য তিন দেশের যানবাহনকে অবাধ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে তা ভুটানে বেকারত্ব সৃষ্টি করতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বাস্তবতায় বিবিআইএন চুক্তির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে পারেনি। তবে গত বছরের শেষ দিকে ভুটানের পার্লামেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় নির্বাচনও। এছাড়া নেপালেও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। চারটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিবিআইএন কার্যকর করার এখনই উপযুক্ত সময়। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারি পর্যায়ে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন হতে যাচ্ছে।

এমইউএইচ/আরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :