মেয়র আসছেন, তাই এই পরিচ্ছন্নতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১১ পিএম, ১৩ জুলাই ২০১৯

খিলগাঁও আজেম আলী জামে মসজিদ সংলগ্ন সড়কটির নাম একতা সড়ক। এ সড়কেই একটি বাসায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীকে দেখতে আসছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

মেয়রের আগমন উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতার মাধ্যেমে সাজ সাজ ভাব। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক আনাগোনা, উপস্থিতি। কিন্তু ৮০৩/এ সড়কের যেই বাসায় আসছেন মেয়র সেই বাসার বিপরীতে কাদাপানি, আবর্জনায় নোংরা জলাবদ্ধতা। এমন এক ভোগান্তিময় দৃশ্য পরিবর্তন করতে হঠাৎই সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেল। ১০-১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তৎপরতায় কাদাপানি, আবর্জনায় নোংরা জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। তারা ঝাড়ু ,কোদাল দিয়ে কাদাপানিময় জলবদ্ধতার অংশটুকু পরিচ্ছন্ন করে ছোট ছোট ট্রলিতে তুলছেন। মেয়র তখনও এসে পৌঁছাননি। তার আগেই মোটামুটি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।

Dhaka-Clean

পাশেইই উৎসুক মানুষের ভিড়। ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন বলছিলেন, মেয়র আসবেন, আর সড়ক আবর্জনা-জলবদ্ধ থাকবে, তা কি হয়! সেখানে উপস্থিত ওই এলাকার বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, অপরিচ্ছন্ন নোংরা কাদাপানিতে একাকার থাকে। কেউই এটা পরিষ্কার করে না। অথচ আজ মেয়র আসবেন জেনে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এটা ঠিক করতে উঠেপরে লেগেছে। নিমিষেই তা পরিচ্ছন্ন হয়ে গেল। অথচ অন্য দিনগুলোতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আরেক বাসিন্দা মোহম্মাদ আতিকুজ্জামান বলেন, আসলে এ রাস্তা ঢালু একটি রাস্তা। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অন্যদিন বৃষ্টির পর ব্যাপক জলাবদ্ধতা থাকে। আজও তাই ছিল। কিন্তু মেয়র আসবেন সে কারণে তড়িৎ সব ঠিক করার চেষ্টা করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

Dhaka-Clean-3

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেখানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আসলে আমরা সব সময় কাজ করি। এখানেও তা করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধতা হবে না কেন বলেন, এ রাস্তার ওপর বাড়ির ইট-খোয়া রেখেছে। পাশেই রাস্তার ওপর টয়লেট বানানো হয়েছে। এসব কারণে বৃষ্টির পর পানি ড্রেনে গিয়ে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে জলাবদ্ধতা হয় এখানে।

ওই বাসায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সুমি আক্তারকে দেখতে শনিবার যান তিনি। এ সময় তিনি ওই বাসার চতুর্থ তলায় সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত সুমি আক্তারের সঙ্গে মেয়র কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। রোগীকে দুই ডালা ফলমূল উপহার দেন তিনি।

এএস/জেডএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :