অবৈধ সমিল ও ইটভাটা উচ্ছেদে ডিসিদের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ সমিল ও ইটভাটা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। রোববার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এতে সভাপতিত্ব করেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সব ডিসি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, বন-পরিবেশ ও জলবায়ুতে যে ক্ষতিকর প্রভাব তা রক্ষার জন্য তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করবেন। আমার মন্ত্রণালয়ের যত সমস্যা রয়েছে এসব সমস্যা সমাধানে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পরিবেশ ও বন রক্ষায় ডিসিদের কী কী নির্দেশনা দিয়েছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবেশ ও বায়ুদূষণ, পাহাড় রক্ষা এবং সমিল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা স্থাপন করে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। এসব অবৈধ ইটভাটা চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। এটা আইনেই রয়েছে। অবৈধ কোনো ইটভাটা থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, বনের দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সমিল থাকতে পারবে না। এগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। ডিসিদের মাধ্যমে এসব অবৈধ জিনিস উচ্ছেদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডিসিদের কোনো চাহিদা রয়েছে কি-না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারা বেশকিছু চাহিদার বিষয়ে বলেছে। আইনের ভেতরে রয়েছে- এমন সব সুবিধা দেয়া হবে বলে আমরা জানিয়েছি।

বন রক্ষায় ডিসিদের ক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন রক্ষায় তাদের কতটুকু ক্ষমতা দেয়া আছে- সেটা তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদের বলেছি, আইনে আপনাদের পুরোপুরি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আপনারা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, অবশ্যই বনকে রক্ষার জন্য বনখেকোদের নির্মূল করতে হবে।

বনধ্বংস, সমিল স্থাপন ও অবৈধ ইটভাটা স্থাপনে রাজনৈতিক কোনো চাপ ডিসিরা পান কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় মামলার কারণে ডিসিরা ব্যবস্থা নিতে পারেন না। আমরা তাদের বলেছি, হাইকোর্টে কোনো মামলা থাকলে আমাদের বলবেন, আমরা সেটা ফেস করব। মন্ত্রণালয় সে মামলা ফেস করে নিষ্পত্তি করবে।

এদিকে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, জেলা পর্যায়ে যেকোনো আইনের কার্যকর প্রয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নির্দেশনা ও নেতৃত্বে দেশের পরিবেশ ও বনজ সম্পদ রক্ষা এবং বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ বাড়াতে নিরলসভাবে কাজ করছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তাই যেসব জেলায় সংরক্ষিত বন ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি সেসব জেলায় দ্রুততার সঙ্গে তা সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

বনভূমির মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পূর্বে বন বিভাগের মাধ্যমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সেন্টমার্টিন, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ ইসিএ অন্তর্ভুক্ত এলাকায় পরিবেশ ও ইকো-সিস্টেমের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং উপকূলের জেগে ওঠা চরে চিংড়ি চাষ কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য বন্দোবস্ত প্রদান না করার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রধীন ১নং খতিয়ানের বন শ্রেণিভুক্ত জমি লিজ/বন্দোবস্ত না দেয়ার জন্যও জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

এমইউএইচ/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :