ঈদের তৃতীয় দিনে ভিড় ছিল না চিড়িয়াখানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯

দিনভর বৃষ্টি থাকায় ঈদের তৃতীয় দিন আজ বুধবার উপচেপড়া ভিড় হয়নি মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি কিছুটা কমায় দর্শনার্থীর আগমন বাড়তে দেখা যায়। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৮০ হাজার মানুষের আগমন ঘটে বলে দাবি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিন চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উৎযাপনে রাজধানীর ছোট-বড় সকল বয়সী মানুষ বাড়তি বিনোদনের আশায় চিড়িয়াখানা ছুটে আসছেন। ভেতরে প্রবেশ করে এদিক-ওদিক ঘুরে কেউ গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ আবার পানির পিপাসা মেটাতে পানির ট্যাংকগুলোর সামনে ভিড় জমিয়েছেন। অনেকে আবার ছাউনির নিচে বসে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা খাবার খাচ্ছেন। তবে বৃষ্টিতে চিড়িয়াখানার ভেতরে-বাইরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ থাকায় নিরাপদে বসার স্থান না পেয়ে অনেককে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে। দীর্ঘ চার বছর এবার চিড়িয়াখানায় প্রবেশ টিকিট মূল্য ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দর্শানার্থীরা জানিয়েছেন।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ বিনোদনে প্রাণীপ্রেমীদের আনন্দ বাড়াতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন করে দুটি চিতা বাঘ, দুটি ইমপালা, দুটি হাতী আনা হয়েছে। শতাধিক ইমু পাখির ইমু পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ঈদে উপচেপড়া দর্শনাথীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগত দর্শনাথীদের সুবিধা দিতে সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

Zoo

চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেল, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আগের চাইতে এবার ঈদে বেশ পরিপাটি করে তোলা হয়েছে। পুরো সীমানাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। ভাঙা খাঁচা ও শেড নতুন করে সংস্কার ও স্থাপন করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার ভেতরে নতুন করে চলাচলের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। দূর-দূরান্ত থেকে ঈদে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা বানর, ভাল্লুক, বাঘ, সিংহ, হাতী, জিরাফ, জেব্রা, হরিণ, সাদা সিংহ, উটসহ বেশ কয়েকটি প্রাণীর শেডের সামনে ভিড় জমিয়ে রয়েছে।

মিরপুর শাহআলী বাগের বাসিন্দা ইমদাদ আলী দুই ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এক জায়গায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চাকরি করি তাই তেমন ছুটি পাই না। এবার ঈদে লম্বা ছুটি পেয়েছি, এ কারণে পরিবার নিয়ে ঘোরাফেরা করছি। পরিবারের সকলেই এসেছি, ছোট বাচ্চারা হাঁটতে চাচ্ছে না বলে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।’

Zoo

তবে প্রবেশ টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে চিড়িয়াখানার মানের তেমন বড় পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ এই পরিবারের।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার অনেক ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হকার ও সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভেতরে ১১টি মনিটরিং টিম নিয়োজিত রয়েছে। প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাইরের ১৫ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়াও ২৬টি মাইকে নিয়ম-শৃঙ্খলা বিষয়ে সার্বক্ষণিক ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদুল আজহার ঈদের তৃতীয় দিনে দেড় লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা কমে গেছে। আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন হয়েছে। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টি না হলে উপচেপড়া ভিড় হবে বলে আশা রাখি।’

Zoo

টিকিট মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কিউরেটর বলেন, প্রবেশ টিকিটের দাম চিড়িয়াখানা বাড়ায় না, এটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, দীর্ঘ চার বছর পর এটি ৩০ থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতরে চলাচলের রাস্তা সম্প্রসারিত ও সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি না থাকলেও এবার ঈদে চিড়িয়াখানার চিত্র পাল্টে যেত বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে, দেশের সবচাইতে বড় ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গঠিত মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসেন হাজারও দর্শনার্থী। চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণী, ১৯ প্রজাতির বড় প্রাণী (তৃণভোজী) ২৭১টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি। এ ছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতি সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১ হাজার ১৬২টি পাখি, অ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত ১৩৬ প্রজাতির ২ হাজার ৬২৭টি মাছ। সব মিলিয়ে ১৩৭টি পশু-পাখির খাঁচা।

এমএইচএম/এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :