রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার মঙ্গলবার থেকে

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ এএম, ২০ আগস্ট ২০১৯

রাখাইনে নিজ নিবাসে ফিরতে চায় কিনা মিয়ানমারের নির্বাচিত রোহিঙ্গাদের কাছে তা জানতে চায়বে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। মঙ্গলবার থেকে এই সাক্ষাৎকার শুরু করবে সংস্থাটি।

সরকারের সূত্রগুলো বলছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে এমনটা ধরেই সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ।

শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, রোহিঙ্গাদের জোর করে পাঠানো হবে না। মিয়ানমারের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা রোহিঙ্গারা ফিরতে চান কিনা ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা তা জানতে চাইবেন। এ সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকবে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রাখাইনে স্বেচ্ছায় যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেবে ইউএনএইচসিআর। গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সবকিছু চূড়ান্ত হয়।

সেবারও রোহিঙ্গারা ফিরতে চায় কিনা সে বিষয়ে তাদের সাক্ষাৎকার নেয় ইউএনএইচসিআর। সেবার সাক্ষাৎকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের রাখা হয়নি। তখন রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় ওই প্রক্রিয়া থেমে যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট প্রস্তুত থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুধু বান্দরবানের ঘুমধুমের স্থলপথেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। আপাতত দিনে ১৫০ জন রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে সে অনুসারে উভয় দেশের সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া বাকি ৫ দিনে সর্বোচ্চ ১৫০০ জন ফিরতে পারবে। তবে দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

জানা যায়, মিয়ানমার দ্বিতীয় দফায় পরিবার ও গ্রামভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের পর রাখাইনের মংডু এবং বুথিডংয়ের ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন বিষয়ে অনাপত্তি দেয়। এই তালিকায় ১ হাজার ৫৬টি পরিবারের ৩৪৫০ জনের নাম রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ বলছে, তালিকায় ১৫টি পরিবারের ৪৭ জনের নাম দু’বার রয়েছে। এ ছাড়া যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাঠায়নি এমন তিনটি পরিবারের ৪ জনের নাম মিয়ানমার তালিকায় যুক্ত করে তাদের ফেরত চেয়েছে।

তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ খোঁজখবর নিচ্ছে। সবমিলে অতিরিক্ত ১৮টি পরিবারের ৫১ জনকে বাদ দিয়ে সংশোধিত একটি তালিকা করেছে বাংলাদেশ।

আবুল কালাম জানান, তালিকায় থাকা ১০৩৮টি পরিবারের ৩৩৯৯ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৭ পরিবারের সকল সদস্য রয়েছেন। এই সংখ্যা ১ হাজার ৩৯০ জন। এছাড়া ৭০১টি পরিবারের আংশিক সদস্যের নাম এসেছে তালিকায়। এই সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন। ফলে এসব পরিবারের যাদের নাম আসেনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একটি সমস্যার থেকেই যাচ্ছে।

জেপি/এমআরএম