আজিমপুরের ফুটপাতে স্মৃতি জাগানিয়া আশুরার মেলা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আধো আলো আধো অন্ধকারে রঙিন বাতি জ্বলছে দুই বছর বয়সী শিশুটির খেলনা ঘড়িতে। অবাক হয়ে সেই ঘড়িতে জ্বলতে থাকা রঙিন বাতির দিকে তাকিয়ে আছে সে। ঘড়িটির দাম মাত্র ১০ টাকা। তবে ১০ টাকার খেলনাতেই মহানন্দে হাত নাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বোনকে দেখাচ্ছে শিশুটি।

Azimpur-1

এ দৃশ্যপট আজ রাত সাড়ে ৮টায় আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের অদূরে পূর্বদিকগামী রাস্তার দক্ষিণ পাশের ফুটপাতের। আশুরা উপলক্ষে ছোট পরিসরে এখানে বিভিন্ন ধরনের খেলনা, বাঁশি, ঢোল, মুড়ি, মুড়কি, সিরামিক ও স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি পণ্যসামগ্রীর ভাসমান দোকানপাট বসেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এ এলাকায় মেলার দোকান বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লুকিয়ে সন্ধ্যায় রাস্তার আলোর নিচে ক্ষুদ্রাকারে দোকানপাট বসেছে। খবর পেয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকেই।

Azimpur-1

লালবাগের নবাবগঞ্জের বাসিন্দা মধ্য বয়সী মুদি দোকানি শাহ আলম ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিকেলে রিকশা দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে পরিচিত একজন মোবাইল ফোনে জানায়, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের অদূরে ফুটপাতে মেলা বসেছে। তাই শুনে ওদের মেলা ঘুরাতে নিয়ে আসেন।

Azimpur-1

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে শাহ আলম বলেন, এক সময় গোটা আজিমপুর এলাকাজুড়ে (বিজিবি ২ নম্বর গেট থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড, আজিমপুর কলোনির ভেতর, ছাপড়া মসজিদের সামনের রাস্তাসহ অলিগলিতে বিশাল মেলা বসতো।মহররমের দুদিন আগে থেকেই দোকান বসানো শুরু হতো। আশুরার দিন এ এলাকায় তিল ধারণের জায়গা থাকতো না। এত বড় মেলার কথা শুনলে ছেলেমেয়েরা বিশ্বাসই করতে চায়না বলে জানান তিনি।

Azimpur-1

চাঁন মিয়া নামের ষাটোর্ধ্ব এক দোকানি বলেন, মেলা হলে প্রচুর বেচাকেনা হবে। লুকিয়ে ছাপিয়ে মেলা বসানোর পরও বেশ ভাল বেচাকেনা। কিন্তু পুলিশ খুব বিরক্ত করে। তাদের খুশি করে তবেই দোকান বসিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এমইউ/এমএসএইচ/পিআর