মানসিক ভারসাম্যহীনের ‘ট্রাফিক সিগন্যাল’!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছুটি হলো ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল। ছয় বছরের শিশু কন্যা নিয়ে বাইসাইকেলে চেপে বকশিবাজারের বাসায় ফিরছিলেন বাবা।

আজ (মঙ্গলবার) যখন দুপুর ১২টা বাজে, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওই বাবা আলমাস হোসেন থমকে দাঁড়ান। তিনি টিএসসির সামনে এসে দেখলেন প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও রিকশার জটলা। আলমাস হোসেনসহ তার ছোট শিশু তাকিয়ে রইল। সামনে দেখা গেল, দু-পাশের রাস্তার ডিভাইডারের ওপর লাল রংয়ের টিশার্ট আর ছাই রংয়ের একটি ফুল প্যান্ট পরে এক মধ্যবয়সী লোক।

Dhaka-

লোকটি হাত পা দুলিয়ে ট্রাফিক পুলিশের মতো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। কখনও ডিভাইডারের ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে যানবাহনকে থামার সিগন্যাল দিচ্ছেন। আবার কখনও নিচে নেমে এসে চলন্ত গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কখনও ট্রাফিকের মতো ডানে-বামে হাত প্রসারিত করে সিগন্যাল দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু-হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে মোনাজাত করছেন।

Dhaka-

এ দৃশ্যে দেখে আলমাস হোসেনের স্কুলপড়ুয়া ক্ষুদে শিশুটি হেসে কুটিকুটি। সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবা, এ আবার কেমন ট্রাফিক পুলিশ। ড্রেস নাই, নাচানাচি করে। তার বাবাও হেসে বলেন, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন।’

মঙ্গলবার টিএসসি চত্ত্বরে ওই ব্যক্তিকে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় বিশেষ ভঙিমায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়।

Dhaka-

সিনগ্যাল না মানলে পাথর বা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে গাড়ির ক্ষতিসাধন হতে পারে, এ আশঙ্কায় অনেক যানবাহনের মালিক, বিশেষ করে প্রাইভেটকারের চালকরা গাড়ি থামিয়ে বসে থাকেন। কেউ সিগন্যাল না শুনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই ওই ব্যক্তি দৌড়ে এসে আবোল তাবোল বকতে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ঠাট্টাচ্ছলে বলেন, যা আজ তুই এ এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। বুঝে না বুঝেই ওই লোক বিশেষ ভঙিমায় শিক্ষার্থীদের কথায় সায় দেন।

এমইউ/জেডএ/জেআইএম