দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে সারা দেশে ছয় অভিযান

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারাদেশে আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) ৬টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

মৌলভীবাজারে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শ্রমিকদের দ্বারা না করিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন- ১০৬) অভিযোগ আসে, ওই প্রকল্পের অধীনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী কাজ না করিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তৎপ্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, হবিগঞ্জ হতে আজ এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক টিম সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের দুটি কাজ (রাস্তা মেরামত ও খাল খনন) খতিয়ে দেখে। সরেজমিন অভিযানে এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে উল্লিখিত দু’টি কাজেই অতি দরিদ্রদের সংযুক্ত না করে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ করা হয়েছে এরূপ তথ্য পায় দুদক টিম।

অভিযানে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টগণ কর্তৃক প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে নীলফামারীতে রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ এবং ফগার মেশিন ক্রয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর-এর সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে আজ ২টি অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডোমার পৌরসভার অধীনে রাস্তা নির্মাণের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। কিন্তু উক্ত এলাকার রাস্তাটি পূর্ব হতেই পাকা থাকায় নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সরেজমিন অভিযানে রাস্তাটির কাজ শুরু করার পূর্বে কোন অবস্থায় ছিল তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য দুদক টিমের নিকট উপস্থাপন করতে পারেনি। সার্বিক বিবেচনায় এ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুমোদন চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে অভিযানকারী টিম।

এদিকে একই টিম উল্লিখিত পৌরসভায় কম মূল্যে ফগার মেশিন ক্রয় করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ আসে, মশক নিধনে ৩টি ফগার মেশিন ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করলেও ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। টিম অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যাবলী সংগ্রহ করে। তথ্যাবলি বিশ্লেষণপূর্বক কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বই ক্রয় করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গ্রাহকদের টাকা অবৈধভাবে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে এবং ভিজিডি তালিকায় অতিদরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত না করে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের প্রদানের অভিযোগে যথাক্রমে প্রধান কার্যালয়, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এবং সমন্বিত জেলা কার্যালয়, বরিশাল হতে ৩টি পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।

এমইউ/এনএফ/জেআইএম